সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: বাজারে হঠাৎ পাটের দামে বড়োসড়ো পতন হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন মালদহ জেলার কৃষকরা। কয়েক দিন আগেও যে পাট কুইন্টাল প্রতি ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেই দাম নেমে এসেছে ১২-১৩ হাজারে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে কুইন্টাল প্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা কমে যাওয়ায় হতাশ চাষিরা। এবছর মালদহ জেলায় তুলনামূলকভাবে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে এবং ফলনও হয়েছে ভালো। শুরুতে ভালো দামে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটলেও আচমকা বাজারদর কমে যাওয়ায় হতাশ তাঁরা।
মাখনা, ভুট্টার পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে পাট চাষে আগ্রহ এবার বেড়েছে কৃষকদের মধ্যে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে পাট চাষ করেছিলেন। ভালো দামে পাট বিক্রি করে ঋণ শোধ করার পরিকল্পনা থাকলেও এখন কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় তাঁদের সামনে আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
হরিশ্চন্দ্রপুরের কৃষক গোপাল কর্মকার বলেন, হঠাৎ করে পাটের দাম কুইন্টাল প্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা কমে যাওয়ায় আমরা ক্ষতির মুখে পড়েছি। পাট ব্যবসায়ী কেরামুদ্দিন আহমেদ জানান, এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে এখনও পাট কেনা শুরু হয়নি। অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে পাট মজুত রাখার ব্যবস্থা নেই। তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা কম দামেই পাট বিক্রি করছেন। উত্তর মালদহ পাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক গোপাল ভগৎ বলেন, জুট মিলের চাহিদা ও কলকাতার বাজারদরের উপরই পাটের দাম নির্ভর করে। বর্তমানে জেসিআই-এর নির্ধারিত দাম সাড়ে আট হাজার টাকা। কৃষক সেখানে পাট বিক্রি করতে পারছেন না। বাজার পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, আগামী দিনে পাটের দাম আরও কমতে পারে।