Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

বাসভবন থেকে নগদ উদ্ধার, ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শেষের আগেই পদত্যাগ বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার

২০২৫ সালের ১৪ মার্চ। রাত ১১টা ৩৫ মিনিট। দিল্লির তুঘলক ক্রিসেন্টের একটি বাংলোয় আগুন লাগার খবর পায় দমকল। কিছুক্ষণের চেষ্টায় সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বাসভবন থেকে নগদ উদ্ধার, ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শেষের আগেই পদত্যাগ বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ। রাত ১১টা ৩৫ মিনিট। দিল্লির তুঘলক ক্রিসেন্টের একটি বাংলোয় আগুন লাগার খবর পায় দমকল। কিছুক্ষণের চেষ্টায় সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু এরপরই চক্ষু চড়কগাছ দমকল কর্মীদের। উদ্ধার হয় কাড়ি কাড়ি পোড়া নোট। ক্রমেই জানা যায়, ওই বাংলোটি দিল্লি হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার সরকারি বাসভবন। বিচার বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগে শোরগোল পড়ে যায়। পরে বিচারপতি ভার্মাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করে শুরু হয় তদন্ত। তাঁকে পদ থেকে সরাতে সংসদে ‘ইমপিচমেন্ট’ প্রক্রিয়াও চলছিল। তবে তার আগেই ইস্তফা দিয়ে দিলেন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সেই বিচারপতি। এর ফলে লোকসভায় শুরু হওয়া ‘ইমপিচমেন্ট’ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার আর কোনো প্রয়োজন রইল না। তবে পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো উপায়ও ছিল না তাঁর কাছে। ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পদ খোয়ানোর আগেই ইস্তফা দিয়ে দেওয়ায় বিচারপতি ভার্মার পেনশন ও অবসরকালীন অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেতে বাধা থাকবে না বলেই খবর।

Advertisement

এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি হিসাবে ইস্তফাপত্রে ভার্মা লিখেছেন, ‘যেসব কারণে আমি এই চিঠি দাখিলে বাধ্য হয়েছি, সেসব জানিয়ে আপনার মহামান্য দপ্তরকে ভারাক্রান্ত করতে চাই না। তবুও গভীর দুঃখের সঙ্গে আমি এতদ্বারা মহামান্য এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচাপতির পদ থেকে অবিলম্বে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছি। এই দপ্তরে কাজ করতে পেরে আমি সম্মানিত।’ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বিচারপতি ভার্মার এই ইস্তফাপত্র রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দপ্তরে ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখের উল্লেখ ছাড়াই ‘অবিলম্বে’ ইস্তফাদান করেছেন তিনি। সংবিধানের ২১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারপতিদের ইস্তফাপত্রে অনুমোদনের কোনো প্রয়োজন পড়ে না। রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে হাতে লেখা পদত্যাগপত্রই যথেষ্ট। বিশেষ কোনো তারিখের উল্লেখ না থাকায় ওই সময়ের মধ্যে ইস্তফা প্রত্যাহারের সুযোগও থাকছে না বিচারপতি ভার্মার কাছে। পদত্যাগপত্র দেওয়ায় বিচারপতি ভার্মার আর কোনো সাংবিধানিক পদ বা রক্ষাকবচ থাকছে না। ফলে তিনি এখন শুধুই একজন সাধারণ নাগরিক। সরকার চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করতে পারে।
নগদ উদ্ধারের ঘটনায় বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে তিন বিচারপতির কমিটি গড়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলেছিল। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ভার্মাকে পদ থেকে সরানো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন। প্রধান বিচারপতি ইস্তফা দিতে বললেও বিচারপতি ভার্মা তখন রাজি হননি বলে খবর। এরপর সংসদে ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে লোকসভার স্পিকারের কাছে প্রস্তাব পেশ হয়। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে গত ১২ আগস্ট স্পিকার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়েছিলেন। তবে ইমপিমেন্টের সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই সরে দাঁড়ালেন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বিচারপতি। অতীতে একইভাবে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শেষের আগেই ইস্তফা দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ভি রামাস্বামী ও কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমিত্র সেন।  

সম্পর্কিত সংবাদ