


নয়াদিল্লি: ‘শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই আর সবই গেছে ঋণে।/বাবু বলিলেন, ‘বুঝেছ উপেন, এ জমি লইব কিনে।’ কবিগুরুর ‘দুই বিঘা জমি’র বাস্তব প্রতিফলন দেখছে বর্তমান ভারত! গ্রামীণ এলাকায় ৪৪ শতাংশ জমিই এখন মাত্র ১০ শতাংশ পরিবারের কুক্ষিগত। তার মধ্যে শীর্ষ ৫ শতাংশ পরিবারের কাছেই রয়েছে ৩২ শতাংশ জমি। উলটোদিকে গ্রামীণ ভারতের ৪৬ শতাংশ পরিবারের কাছে কোনো জমিই নেই। তারা ভূমিহীন পরিবার। বৈষম্যের এমনই চিত্র সম্প্রতি উঠে এসেছে ওয়ার্ল্ড ইনইক্যুয়ালিটি ল্যাব প্রকাশিত একটি সমীক্ষা রিপোর্টে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, তফসিলি জাতি ও উপজাতি প্রধান গ্রামেই ভূমিহীনতার হার সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে উৎপাদিত সম্পদের অধিকারে সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসের প্রভাব প্রতিফলিত হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম হল দীর্ঘ বাম শাসনের ইতিহাস থাকা দুই রাজ্য কেরল ও পশ্চিমবঙ্গ।
প্যারিস স্কুল অব ইকনমিক্সের অধীনস্থ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইনইক্যুয়ালিটি ল্যাব। তাদের প্রকাশিত রিপোর্টটির শিরোনাম, ‘ল্যান্ড ইনইক্যুয়ালিটি ইন ইন্ডিয়া: নেচার, হিস্ট্রি অ্যান্ড মার্কেটস’। সেখানে দাবি করা হয়েছে, মাত্র এক শতাংশ শীর্ষ পরিবারের কাছে রয়েছে গ্রামীণ ভারতের ১৮ শতাংশ জমি। নীতিন কুমার ভারতী, ডেভিড ব্ল্যাকেসলি ও সামরিন মালিক যৌথভাবে ওই রিপোর্ট তৈরি করেছেন। সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ২ লক্ষ ৭০ হাজার গ্রামের প্রায় ৬৫ কোটি মানুষকে। ভারতে জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমীক্ষার ইতিহাসে এটি বৃহত্তম ডেটাসেটগুলির অন্যতম। সেখানেই উঠে এসেছে বৈষম্যের করুণ চিত্র। রিপোর্টে এও দাবি করা হয়েছে, গ্রামগুলিতে গড়ে প্রায় ১২ শতাংশ জমি নিয়ন্ত্রণ করেন সেখানকার সবচেয়ে বড় ভূস্বামী। কোথাও কোথাও আবার মাত্র একজন ভূস্বামীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে গ্রামের মোট কৃষিজমির অর্ধেকেরও বেশি। যেসব গ্রামে কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ বেশি, সেখানে জমির মালিকানা সংক্রান্ত বৈষম্যও বেশি।