


ঢাকা: কেউ জমি বিরোধে খুন হয়েছেন, কেউ আবার অসুস্থতার জেরে, দুর্ঘটনায় বা বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন। অথচ এমন ব্যক্তিদের নামও জ্বলজ্বল করছে বাংলাদেশের ‘জুলাই শহিদ’-এর তালিকায়। গত বছর শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে মৃতদের তালিকা প্রকাশ করেছে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁদের ‘শহিদ’ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক ‘শহিদ’ পরিবারকে এককালীন ৩০ লক্ষ টাকা দেবে সরকার। এছাড়া মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা ও ঢাকায় ফ্ল্যাটও দেওয়া হচ্ছে। অথচ ৮৩৪ জন মৃতের তালিকায় অন্তত ৫২ জনের নাম রয়েছে, যাঁরা ওই আন্দোলনে কখনই অংশ নেননি। তালিকায় নাম রয়েছে ৪ মৃত পুলিশকর্মীর ও এক ছাত্রলিগ নেতারও! এমনকি হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে মারা গিয়েছেন, এমন ব্যক্তির নামও ওই তালিকায় জুড়ে গিয়েছে। ওই ৫২ জনের কয়েকজনের পরিজন স্বীকারই করে নিয়েছেন, সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় নাম দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হতেই নড়েচড়ে বসেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রক। ‘শহিদ’দের তালিকা ফের যাচাই করা হচ্ছে বলে মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে।
ইউনুসের সরকারের ‘শহিদ’ তালিকায় নাম রয়েছে বিএনপি নেতা মহম্মদ আল-আমিন ভুঁইয়ার। গত বছর ১৪ আগস্ট ঢাকায় আল-আমিন ও তাঁর ভাইকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। ‘জুলাই শহিদ’ সংক্রান্ত অধ্যাদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট হাসিনার দেশত্যাগের পর পর কোনও ঘটনায় নিহতদের ‘শহিদ’ তকমা দেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে আল-আমিনের নাম কোন যুক্তিতে তালিকায় স্থান পেল, তার কোনও উত্তর নেই। তাঁর আত্মীয়রাই জানিয়েছেন, এই খুনের পিছনে জমি সংক্রান্ত বিরোধ দায়ী। হাসিনা বিরোধিতার জন্য তিনি খুন হয়নি। আল-আমিনের নাম ‘শহিদ’ তালিকায় কীভাবে উঠল, তা পরিজনরা জানেন না। গত বছর ১৯ জুলাই মহম্মদপুরে অসুস্থ হয়ে মারা যান অটো রিকশচালক জামালউদ্দিন। তিনিও ‘শহিদ’ তকমা পেয়েছেন। জামালের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, কেন তালিকায় তাঁর নাম উঠেছে, তা জানেন না। তবে ইতিমধ্যেই সরকারি সাহায্যের ১০ লক্ষ টাকা পেয়ে গিয়েছেন। একইভাবে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মৃত খুলনার এক ছাত্র সহ অগ্নিদগ্ধ ৩৫ জন ও দুর্ঘটনায় মৃত তিনজনের নামও তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
আওয়ামি লিগ প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছে, সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে আদতে হাসিনার বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র’ হয়েছে। এবার ‘জুলাই শহিদ’দের তালিকায় গরমিল নিয়েও সরব হয়েছে তারা। হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রসংঘকে ভুল তথ্য দিয়ে রিপোর্ট বানিয়েছেন ইউনুস। এই জুলাই শহিদদের নাম দিয়ে হাজার হাজার ভুয়ো মামলা করা হয়েছে। সেই সব মামলার লক্ষ লক্ষ অভিযুক্তদের হেনস্তা করা হচ্ছে। এই তালিকায় ইউনুসের মিথ্যাচার প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে।