নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: এসআইআর সংক্রান্ত নথি যাচাই শুরু করলেন বিচারকরা। জেলা আদালতের মতো এসআইআরের কাজে যুক্ত হয়েছেন আলিপুর, শিয়ালদহ, কলকাতা নগর দায়রা, নগর দেওয়ানি, স্মল কলেজ আদালতের বিচারকরা। তাতে শহরের ৫টি আদালতে হাজার হাজার মামলার শুনানি থমকে। চরম সমস্যায় পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা। জানা গিয়েছে, আলিপুর আদালতের ১৭ জন বিচারক এই কাজে যুক্ত। শিয়ালদহ আদালতের দু’জন বিচারক। কলকাতা নগর দেওয়ানি আদালতের আটজন। কলকাতা নগর দায়রা আদালতে তিনজন। কলকাতা স্মল কলেজ কোর্টের ১ একজন বিচারক যুক্ত হয়েছেন। পাঁচটি আদালতের মোট ৩১ জন বিচারক এসআইআরের কাজে যুক্ত রয়েছেন। কলকাতা নগর দায়রা আদালতের দুই বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি তরুণ চট্টোপাধ্যায় ও প্রবীর মুখোপাধ্যায় মঙ্গলবার বলেন, ‘এই কাজের জেরে সমস্যায় পড়বেন বিচারপ্রার্থীরা।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেও শুরু হয়েছে বিচারকদের মাধ্যমে এসআইআরের নথি যাচাইয়ের কাজ। বিচারকদের লগইন আইডিতে সিইও অফিস থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ভূরিভূরি ভোটারের আবেদন। যেমন মেটিয়াবুরুজ বিধানসভা যে বিচারক দেখছেন, তাঁর লগইন আইডিতে ৭৪ হাজার ভোটারের তথ্য পাঠানো হয়েছে। বেহালা পশ্চিমে এসেছে প্রায় ১১ হাজার আবেদন। মাইক্রো অবজার্ভার এবং রোল অবজার্ভার যেসব ভোটারের আবেদন পুনর্যাচাই করতে ফেরত পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁদের মতামতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইআরও অথবা এইআরও একমত হতে পারেননি সেগুলিও খতিয়ে দেখছেন বিচারকরা। তাঁদের সঙ্গে বসেছেন সংশ্লিষ্ট বিধানসভার ইআরও, যে পার্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে, তার এইআরও, এবং মাইক্রো অবজার্ভার। আলিপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সদর কার্যালয়ে যাদবপুর, টলিগঞ্জ, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, কসবা ও মেটিয়াবুরুজ বিধানসভার নথি খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি বিধানসভার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্লক ও মহকুমা অফিসে বসছেন বিচারকরা। বারাকপুর প্রশাসনিক ভবনেও অতিরিক্ত জেলা জজেরা এদিন শুনানি প্রক্রিয়া শুরু করেন। এবং জেলা জজ নিজে এসে মনিটরিং করেন। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল গোটা প্রশাসনিক ভবন। তিন জন অতিরিক্ত জেলা জজ আজকে হিয়ারিং করেছেন বারাকপুরে।
অন্যদিকে, ৭ জন বিচারকের তত্ত্বাবধানে এসআইআরের তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হলেও প্রথম দিনেই ধীরগতির ছবি ধরা পড়ল হাওড়া জেলাশাসকের দপ্তরে। একটি বিধানসভা কেন্দ্রের মাত্র দু’টি পার্টের তথ্য যাচাই করতেই দুপুর গড়িয়ে বিকেল। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রতি পার্টে ৩০-৬০টি করে অসঙ্গতি ধরা পড়ছে। একাধিক বিএলও’র কাছে প্রায় ৪০০টি পর্যন্ত নথি সংক্রান্ত ত্রুটি রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের কাজ শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
হাওড়া গ্রামীণ এলাকার উলুবেড়িয়া মহকুমার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রশাসনিক কার্যালয় বিডিও অফিসে এসআইআরের কাজে গেলেন বিচারকরা। মঙ্গলবার বিচারকরা উলুবেড়িয়া পূর্ব বিধানসভা, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভা এবং আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রশাসনিক কার্যালয়ে যান। প্রাথমিকভাবে কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এবং বিডিও, ইআরওদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বিচারকরা।