সংবাদদাতা, সিউড়ি: জাতীয় সড়কে বেপরোয়া গাড়ির দৌরাত্ম্য এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে পুলিসের ওয়াচ টাওয়ার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিন-চার বছর আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশে জেলা পুলিসের তরফে জাতীয় সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলি ফাঁকাই থাকতে দেখা যায়। বর্তমানে সেই টাওয়ারগুলি কিছু জায়গা দেখা গেলেও তাতে থাকে না পুলিস কর্মীরা। জেলা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জেলায় ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে দুবরাজপুর, মহম্মদ বাজার হয়ে রামপুরহাট যাওয়ার রাস্তায় এই ওয়াচ টাওয়া তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ভগ্ন অবস্থায় রাস্তার এক ধারে পড়ে রয়েছে মহম্মদ বাজার থানার টোল ট্যাক্সের কাছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। বাকি কোথাও আর সেগুলি দেখা যায় না বলে অভিযোগ। কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী এই জেলায় দেদার বালি পাচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। রাস্তায় ওভারলোডিং গাড়ির ওপর নজরদারি বাড়ানোরও নির্দেশ দেন তিনি। সেই অনুযায়ী অভিযানও শুরু করেছে প্রশাসন। কিন্তু এই নজরদারিতে পুলিসের ওয়াচ টাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারত বলে মনে করছেন অনেকেই। তাছাড়া দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এই ওয়াচ টাওয়ার কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে। জানা গিয়েছে, জেলা মহম্মদ বাজার থানার দেউচা পাচামি পাথর শিল্পাঞ্চল থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি জাতীয় সড়ক দিতে যাতায়াত করে। হামেশাই লেগে থাকে দুর্ঘটনা। এছাড়া এই থানা এলাকার একাধিক বেআইনি বালিঘাটেরও হদিশ পেয়েছে প্রশাসন। এই মহম্মদ বাজার দিয়েই প্রতিনিয়ত বেআইনি ভাবে ওভারলোড বালির গাড়ি পাচারের সময় ধরা পড়ছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকদের হাতে। কিন্তু সেখানে থানার নাকের ডগা দিয়ে এই সব কাণ্ড ঘটলেও কোনও হেলদোল নেই থানার। একদিন আগেই এই থানা এলাকার মহম্মদ বাজার সাঁইথিয়া রাস্তায় মুর্শিদাবাদে বেআইনি বালির গাড়ি পাচারের আগে ধরা পড়েছিল। মহম্মদ বাজার থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্ব দিয়ে এই গাড়ি পাচারের আগে ধরা পড়ে। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এলাকার বিভিন্ন মোড়গুলিতে পুলিসের ওয়াচ টাওয়ার লাগিয়ে সেখান থেকে নজরদারি চালালে এই পাচার আরও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। যদিও এই ওয়াচ টাওয়ার প্রসঙ্গে জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, এই ওয়াচ টাওয়ারগুলি রাস্তায় নজরদারির জন্য করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলার পর এক সময় এগুলো করা হলেও এখন আর সেগুলো কাজে লাগে না। তাই রাস্তার ধারে পড়ে আছে। এই ওয়াচ টাওয়ার নতুন করে চালু করা নিয়ে এখনই কোনও পরিকল্পনা নেই।



