Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

জিরিবামে দুই বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ শিশু সহ ৬

জিরিবামে দুই বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ শিশু সহ ৬
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল :  অগ্নিগর্ভ মণিপুর। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলি বিনিময়ে ১১ জন কুকি দুষ্কৃতীর মৃত্যু ঘিরে পরিস্থিতি মঙ্গলবারও ছিল রীতিমতো উত্তেজনাপূর্ণ। এরইমধ্যে এদিন জিরিবামে দুই বৃদ্ধর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিস। সোমবার জেলার জাকুরাধোর করোং এলাকায় আগুন ধরিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। সেখান থেকেই লাইশরাম বালেন এবং মইবাম কেশোর নামে দুই বৃদ্ধর দেহ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি মেইতেই গোষ্ঠীর তিন শিশু ও তিন মহিলা সহ ছ’জন নিখোঁজ। তাদের সন্ধানে জোর তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিসের এক আধিকারিক। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। দলের মণিপুরের সাংসদ বিমল অকোইজাম নিখোঁজদের নিরাপদে উদ্ধার করে আনতে প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে তিনি বলেছেন, নিখোঁজদের কিছু হলে সরকারই দায়ী থাকবে। 
Advertisement
এদিকে, সোমবারের ঘটনায় তাদের গোষ্ঠীর ১১ জনের মৃত্যুর প্রতিবাদে কুকি-জো সংগঠনগুলির ডাকা বন্‌঩ধে রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলের জনজীবন এদিন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। জিরিরামের ঘটনাকে ‘ভুয়ো এনকাউন্টার’ আখ্য্য দিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে সংগঠনগুলি। এদিন ভোট পাঁচটা থেকে ১৩ ঘণ্টার এই বন্‌ধ শুরু হয়। বন্‌ধ চলাকালে কুকি জনজাতি বহুল এলাকায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে পুলিস জানিয়েছে। স্কুল-কলেজ, বাজার-দোকান , সরকারি অফিস ছিল বন্ধ। রাস্তায় যান চলাচল করেনি। সোমবারের ঘটনায় বিভিন্ন কুকি-জো সংগঠন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিশানা করেছে। সিআরপিএফকে সামাজিক বয়কটেরও ডাক দিয়েছে সংগঠনগুলি। 
সোমবার সশস্ত্র  দুষ্কৃতীরা জিরিবামের বরোবেকরা থানা এবং সংলগ্ন সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলা চালায় বলে পুলিস জানিয়েছে। এর পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। দু’পক্ষের গুলির লড়াইয়ে ১১ জন দুষ্কৃতীর মৃত্যু হয়। নিহতরা সকলেই কুকি জনজাতির বলে জানা গিয়েছে।  গুরুতর জখম হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ানও। ওই ঘটনার পরই জিরিবামে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়।  জেলাজুড়ে মোতায়েন করা হয় বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনী। এদিন সেখানে নতুন কোনও হিংসার ঘটনা না ঘটলেও পরিস্থিতি ছিল থমথমে। কিন্তু সোমবারের ঘটনার পর ইম্ফল উপত্যকার একাধিক জায়গা থেকে হিংসার খবর পাওয়া গিয়েছে। এরইমধ্যে এদিন ইম্ফল পশ্চিম জেলার দুটি গ্রামে বেশ কয়েকটি উন্নত মর্টার শেল বাজেয়াপ্ত করে নিরাপত্তা বাহিনী। 
এরা এখনও নিখোঁজ।-ফাইল চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ