Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জোড়পুকুড়িয়া প্রাইমারি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বিরোধ চরমে

জোড়পুকুড়িয়া প্রাইমারি স্কুলে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বিরোধ চরমে
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ফরাক্কার জোড়পুকুড়িয়া প্রাইমারি স্কুলে এবার প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বিরোধ চরমে উঠেছে। মিড ডে মিলে অনিয়ম ও ছাত্র শূন্য শ্রেণিকক্ষে সহকারী শিক্ষককে বসিয়ে রাখা সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অনিয়মের অভিযোগে মিড ডে মিল পরিচালনার জয়েন্ট অপারেটর এক সহকারী শিক্ষক বিলে সই করছেন না। তাই টাকার অভাবে মিড ডে মিল বন্ধ হতে বসেছে। গোটা বিষয়টি নিয়ে মহকুমা প্রশাসন, ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে এসআই অফিসে অভিযোগ করেছেন এক সহকারী শিক্ষক। তবে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। মিড ডে মিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওই সহকারী শিক্ষক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছে বলে দাবি প্রধান শিক্ষকের। শিক্ষকদের এই বিরোধের প্রভাব ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনে পড়ছে।
Advertisement
ফরাক্কার বিডিও জুনায়েদ আহমেদ বলেন, স্কুলের শিক্ষকদের বলব নিয়ম মেনে স্কুল পরিচালনা করতে। ছেলেমেয়েদের পঠনপাঠন যাতে সঠিকভাবে হয়, সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। নিয়ম মেনে সব কিছু হোক। কেউ অন্যায় করলে বরদাস্ত করা হবে না।
ফরাক্কা চক্রের ২৬ জোড়পুকুরিয়া স্কুলে প্রি-প্রাইমারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হয়। পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অপূর্ব সরকারের বিরুদ্ধে মিড ডে মিলে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপস্থিত ছাত্র সংখ্যা বেশি দেখানো এবং মিড ডে মিলে নিয়মিত ডিম না দেওয়া সহ একগুচ্ছ অভিযোগ উঠেছে। সঠিকভাবে হিসেব না দেওয়ায় মিড ডে মিলের অ্যাকাউন্টের জয়েন্ট অপারেটর সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণ মণ্ডল চেকে সই করছেন না। ফলে ব্যাঙ্ক থেকে টাকাও তোলা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থের অভাবে মিড ডে মিল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। 
কৃষ্ণবাবু বলেন, প্রধান শিক্ষক ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতির সঠিক হিসেব দিচ্ছেন না। উপস্থিতির দ্বিগুণ হাজিরা দেখাচ্ছেন। যেদিন ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি বেশি থাকে সেদিন উনি  ডিম দেন না। এই অনিয়ম হতে দেওয়া যাবে না। আমি চাই নিয়ম মেনে স্কুল চলুক। তাই অভিযোগ জানিয়েছি। 
আরএক সহকারী শিক্ষক মহম্মদ সাজিরুদ্দিন বলেন, পঞ্চম শ্রেণিতে খাতায় কলমে ৫১জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি থাকলেও তারা স্কুলে আসে না। অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী বেসরকারি স্কুলে পড়ে। ফলে ওই শ্রেণিতে কোনও পড়ুয়া আসে না। আমাকে ফাঁকা ক্লাসে বসে থাকতে হয়। সময় কাটাতে গল্পের বই পড়ি। প্রধান শিক্ষক মিড ডে মিলে ছাত্র উপস্থিতি বেশি দেখাবেন বলেই আমাকে বসিয়ে রেখে নিজে দু’টি ক্লাস রেখেছেন।
প্রধান শিক্ষক অপূর্ব সরকার বলেন, কৃষ্ণবাবু আগে মিড ডে মিল দেখাশোনা করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় সরকারি নির্দেশে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই থেকে উনি আমাকে মানসিকভাবে হেনস্তা ও অপদস্থ করার চেষ্টা করেছেন। নিজ অর্থে মিড ডে মিল চালু রেখেছি। তবে এভাবে আর কত দিন চালানো সম্ভব? ছ’টি ক্লাসের জন্য পাঁচজন শিক্ষক। তাই নিজেই দু’টি ক্লাসের দায়িত্ব নিয়েছি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ