নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অবসরের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি কর্মীদের দু’টি বিষয়েই উদ্বেগ তথা টেনশন থাকে সবথেকে বেশি। সময়মতো সব অবসরকালীন প্রাপ্য আর্থিক বকেয়া পাব তো? এবং পেনশন ফাইল দ্রুত অনুমোদিত হয়ে যাবে তো? দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের একাংশের ক্ষোভ চরমে। কারণ সময়মতো বহু কর্মীর জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডের (জিপিএফ) টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। নানাবিধ জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে জিপিএফ আটকে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী জিপিএফ যদি সময়মতো প্রদান করা না হয়, সেক্ষেত্রে দিতে হবে জমা টাকার উপর নির্ধারিত হারে সুদ। দেখা যাচ্ছে সুদের হিসেবেও গরমিল। অর্থাৎ অভিযোগ জমা পড়ছে যে, যত দেরি হলে সুদ দেওয়ার কথা, সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সুদ ধার্য করা হয়নি। এই অভিযোগের পাহাড় জমছে কেন্দ্রীয় ডিপার্টমেন্ট অফ পেনশন অ্যান্ড পেনশনার্স ওয়েলফেয়ারের কাছে। এই সমস্যা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, গত ২৫ অক্টোবর পেনশন পেমেন্ট অর্ডার (পিপিও) সংক্রান্ত একটি বিশেষ সার্কুলার জারি করে কঠোরভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে কেন্দ্র বলেছে যাতে এরকম অভিযোগ কোনওভাবেই আর না আসে। এবং প্রতিটি অভিযোগের দ্রুত সমাধান করতে হবে। এমনকী যে দপ্তর এবং যে আধিকারিকদের হাতে এই এই দায়িত্ব থাকবে, তাঁদের নিতে হবে দায়। গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ১৯৬০ সালের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (সেন্ট্রাল সার্ভিস) রুলস অনুযায়ী অ্যাকাউন্টস অফিসার অবকার নেওয়া কর্মীর জিপিএফ প্রদানের সময়সীমা সুনিশ্চিত করবেন। এমনকী যদি কোনও কেন্দ্রীয় কর্মীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলে অথবা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও অবযাহত থাকে, তাহলেও তাঁর পাওনাগন্ডা আটকে রাখা যাবে না। কারণ ওইসব টাকা পাওয়া তাঁর অধিকার। আগে সেসব মেটাতে হবে। পে অ্যান্ড অ্যকাউন্টস অফিস ৬ মাসের জন্য সুদ প্রদানের অনুমতি দিতে পারে। তবে তার থেকেও দেরি হলে আবেদন করতে হবে ঊর্ধতন বিভাগে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, এভাবে এত কর্মীর জিপিএফ আটকে যাচ্ছে কেন? কাদের দোষে? এদের যে সুদ দিতে হবে সেই টাকাও তো জনগণের অর্থ! কাদের গাফিলিত? সেটাও চিহ্নিত করা হবে।



