নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আল আম্মান স্টেডিয়াম থেকে সড়কপথে প্রায় দেড় ঘণ্টার দূরত্বে আল আজরাক এয়ারবেস। জর্ডনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হানা নিয়ে টেনশন চরমে। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার এসিএল টু’য়ের ম্যাচে জর্ডনের আল হুসেইনের বিরুদ্ধে নামছে ইস্ট বেঙ্গল। আল আম্মান স্টেডিয়ামে ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ন’টায় ম্যাচ শুরু। যুবভারতীতে কুয়েতের আল আরবিকে বশ মানিয়ে গ্রুপ পর্বে পা রেখেছিল আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল। আল হুসেইনের বিপক্ষেও চ্যালেঞ্জ ছুড়তে তৈরি লাল-হলুদ সারথি। ম্যাচের আগে আনোয়ারদের স্প্যানিশ কোচের মন্তব্য, ‘এশিয়ার মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ রয়েছে। ফুটবলাররা মাঠে নামতে মুখিয়ে। ৯০ মিনিট লড়াই চাই।’ কোচের পাশে বসা মহম্মদ রশিদও উজাড় করে দিতে তৈরি। চলতি মরশুমে প্যালেস্তাইনের মিডিও দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। মাঝমাঠের ভারসাম্য তাঁর উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। রশিদ বললেন, ‘ফুটবলাররা ম্যাচের গুরুত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। হেভিওয়েট প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোনোমতেই ফোকাস হারানো চলবে না।’
বিদেশি দলের বিরুদ্ধে বরাবরই উজ্জীবিত পারফরম্যান্স করেছে মশাল বাহিনী। ২০০৮ সালে এফসি কাপে জর্ডনের আল উইদাতের মুখোমুখি হয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। সেবার অ্যাওয়ে ম্যাচে ২-০ গোলে উইদাত বধ করেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। সেই ম্যাচের অন্যতম গোলদাতা আলভিটো ডি’কুনহা বললেন, ‘হাবাসের উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। নিশ্চয়ই তাঁর ব্লু প্রিন্ট তৈরি। তবে ভুললে চলবে না, জর্ডন সদ্য বিশ্বকাপ খেলেছে। ঘরের মাঠে ওরা প্রেসিং ফুটবলই খেলবে।’ উল্লেখ্য, জর্ডনের জাতীয় দলের চার গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার আল হুসেইনের সম্পদ। দ্রুতগতির দুই উইঙ্গারও ইস্ট বেঙ্গলের চিন্তার কারণ।
ম্যাচের আগের দিন মূল স্টেডিয়ামে অনুশীলন করাই ট্রেন্ড। তবে টার্ফ মেরামতির কারণে আম্মান স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিসের অনুমতি পায়নি ইস্ট বেঙ্গল। তাই মঙ্গলবার স্থানীয় মাঠেই প্রস্তুতিতে ফিনিশিং টাচ দিলেন হাবাস। আল আরবি ম্যাচের মতোই সিঙ্গল স্ট্রাইকারেই দল সাজাবেন তিনি। রক্ষণে হার্দিক ভাট, আনোয়ার, জিভুলিচের সঙ্গে সন্দীপ মান্ডিকেই খেলানোর সম্ভাবনা। মাঝমাঠে জিকসন, রশিদের প্রাচীর থাকছেই। তবে রশিদ কোনো কারণে না পারলে রেনিয়ার ফার্নান্ডেজকেও তৈরি রাখা হচ্ছে। ডাবল পিভটের উপরে বল হোল্ড করার দায়িত্ব রামিরেজের কাঁধে। উইংয়ে বিপিন, রোহিত দানু, বিষ্ণুদের পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলাতে চান হাবাস। ক্রমাগত শাফল করে বিপক্ষ দুর্গে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করবেন এডমুন্ড। প্রতি-আক্রমণই হাবাসের অস্ত্র। তবে স্ট্রাইকারে বিদেশি ফুটবলার না থাকা অবশ্যই চিন্তার কারণ। এদিকে, মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতায় এলেন আইভরি কোস্টের বিদেশি একে লোবা।
ম্যাচ শুরু ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ন’টায়। সরাসরি সম্প্রচার ফ্যান কোড অ্যাপে।