নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তবে কি আপাতত তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে দেবে নির্বাচন কমিশন? আসন্ন ৬ অক্টোবরের (নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর) উপনির্বাচনে দু’পক্ষ লড়বে অস্থায়ী কোনো প্রতীকে? শনিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দু’পক্ষের ম্যারাথন বৈঠকের পর এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। এদিন প্রথমে ঋতব্রতপন্থী পাঁচজনের সঙ্গে কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠক হয় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। পরে মমতাপন্থী পাঁচ প্রতিনিধির সঙ্গে ২ ঘণ্টা ৪২ মিনিট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশির পাশাপাশি আরও দু’জন আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিবাদের অন্যতম মূল বিষয় ছিল, সময়কাল। তৃণমূল দলের জাতীয় কর্মসমিতির এবং সভাপতি নির্বাচন।
এই প্রশ্নে ঋতব্রতদের আইনজীবী কমিশনের কাছে সওয়াল করেছেন যে, অভ্যন্তরীণ কোনো নির্বাচন সময় মতো হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের খেয়াল খুশি মতো দল চালিয়েছেন। গণতান্ত্রিক কোনো রাজনৈতিক দলে যা চলতে পারে না। তাঁদের সওয়াল ছিল, তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ তিন বছরের। সভাপতির মেয়াদ পাঁচ বছরের। ২০২২ সালে জাতীয় কর্মসমিতির নির্বাচন হয়েছিল। ফলে তিন বছর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালে। একইভাবে দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিয়েও তৃণমূল দু’রকম তারিখ জানিয়েছে। ফলে নির্বাচন সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলেই দাবি করেছে ঋতব্রতপন্থীরা। তাঁদের এই বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো নথি আছে কিনা, জানতে চেয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। সেই মতো কিছু কাগজপত্র কমিশনে শীঘ্রই জমা করবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। আলিপুর নিম্ন আদালতের কিছু অর্ডার কপি জমা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, মমতাপন্থীরা কমিশনকে কাগজপত্র দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, প্রতি পাঁচ বছর অন্তরই চেয়ারপার্সন নির্বাচনের জন্য অভ্যন্তরীণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবং পরবর্তীতে জাতীয় কর্মসমিতিও গঠিত হয়েছে যথাক্রমে ২০০৬, ২০১১, ২০১৭ এবং ২০২২ সালে। এর থেকেই স্পষ্ট যে, তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন এবং জাতীয় কর্মসমিতির মেয়াদ পাঁচ বছর। ফলে অন্যরা কমিশনকে বিভ্রান্ত করছে। প্রতিনিধিদল আরও জানিয়েছে, আজ যারা নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করছে, তারাই পাঁচ মাস আগে
তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচনে লড়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সেই দলের প্রতীকে স্বাক্ষর করেছিলেন। নির্বাচনে লড়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সই করে প্রতীক দিলেন, এখন তাঁরই দল নয় বলে অন্যরা যে দাবি করছে, তা কি
আদৌ যুক্তিসঙ্গত?
এদিন অরূপ রায় বলেন, আমরা কমিশনকে অনুরোধ করেছি, দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানোর। অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আশাকরি কমিশন একটা কোনো অন্তবর্তী রায় দেবে। তবে যতক্ষণ না কমিশন জানাচ্ছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন নন, ততক্ষণ আমরা জোড়াফুল প্রতীকেই প্রার্থী দেব। আইনে কোনো বাধা নেই।