


সংবাদদাতা, লালবাগ: ভাগীরথীর পশ্চিমপাড়ে এক সময়ের বাম দুর্গ নবগ্রামে গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের জন্য ঘাসফুল ফুটেছিল। নবগ্রাম আসনটি ধরে রাখতে এবার প্রার্থী পরিবর্তন করেছে তৃণমূল। জয় নিশ্চিত করতে বিদায়ী বিধায়কের পরিবর্তে নতুন মুখ তথা নবগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ প্রণবচন্দ্র দাসকে টিকিট দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণার পর থেকেই প্রণববাবু ময়দান চষে বেড়াচ্ছেন। ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে কখনো হেঁটে, কখনো হুডখোলা গাড়িতে জনসংযোগ ও প্রচার সারছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের নিয়ে পৌঁছে যান নিয়াল্লিশপাড়া অঞ্চলে। সেখানে হুডখোলা গাড়িতে চেপে প্রচার শুরু করেন। তৃণমূল প্রার্থী প্রচারে আসছেন জানাজানি হতেই সকাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে শুরু করেন। প্রার্থী এসে পৌঁছতেই শাঁখ বাজিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। মহিলারা এগিয়ে এসে মিষ্টিমুখ করান। মাঝে কিছুটা সময় বিরতির পর বিকালে কিরীটেশ্বরী অঞ্চলের নারকেলবাগান থেকে বাইক র্যালি শুরু হয়। তৃণমূলের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানকে নিয়ে প্রার্থী হুডখোলা গাড়িতে ছিলেন। বাইক র্যালি ঘিরে দলীয় কর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আবেগ, উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। র্যালি শেষে পাঁচগ্রাম উত্তর মোড়ে পথসভায় যোগ দেন।
প্রণববাবু বলেন, দল আমার উপর যে আস্থা রেখেছে তার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করছি। প্রথম দিন থেকে যেখানেই যাচ্ছি দারুণ সাড়া পাচ্ছি। নবগ্রামের মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা, আশীর্বাদ পাচ্ছি তাতে আমি আপ্লুত। এখন জয় ছাড়া কিছুই ভাবছি না। আমার পাখির চোখ গতবারের জয়ের মার্জিনকে ধরে রাখা।
বিজেপি প্রার্থী দিলীপ সাহা বলেন, মানুষ পরিবর্তন চাইছে। নবগ্রামে পদ্মফুল ফোটা শুধু সময়ের অপেক্ষা। কংগ্রেস প্রার্থী হিরু হালদার বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি একই মুদ্রার দু’পিঠ। আমি নিশ্চিত নবগ্রামের প্রকৃত উন্নয়নে মানুষ কংগ্রেসের হাত ধরবে। সিপিএম প্রার্থী পূর্ণিমা দাস বলেন, এবার ভালো সাড়া পাচ্ছি। নবগ্রাম আসন পুনরুদ্ধারে আমরা আশাবাদী।
২০২১ সালে একদা বামদুর্গ নবগ্রামে প্রথমবার ঘাসফুল ফোটে। তৃণমূল প্রার্থী কানাইচন্দ্র মণ্ডল বিজেপির মোহন হালদারকে ৩৫ হাজার ৫৩৩ ভোটে পরাজিত করেন। কানাইবাবু পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৪৫৫ ভোট। পদ্মের ঝুলিতে গিয়েছিল ৬৪ হাজার ৯২২ ভোট। সিপিএম প্রার্থী কল্পনা ঘোষ পেয়েছিলেন ৩৯ হাজার ১২৯ ভোট। পরবর্তীতে বিধায়কের কাজে মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যার প্রভাব পড়ে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে। ৩৫ হাজারের ব্যবধান কমে হয় প্রায় ১৫ হাজার। ভোট ব্যাংকের এই ধস তৃণমূল নেতৃত্বের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলে। স্বাভাবিকভাবেই ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে এনে গতবারের মার্জিন ধরে রাখতে নতুন মুখে আস্থা রেখেছে শাসক দল। এখন দেখার ৪ মে এই কেন্দ্রে শেষ হাসি কে হাসে?