জোয়ান অব আর্ক। পৃথিবীতে ছিলেন মাত্র ১৯ বছর। তার মধ্যেই দেশ ভক্তি আর সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে গিয়েছেন ফ্রান্সের এই বীরাঙ্গনা। ডাইনি অপবাদ দিয়ে তাঁকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। সেই আগুনে পুড়েই সোনার মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল জোয়ানের বীরগাথা। আজও ফ্রান্স তথা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে নারীশক্তির অন্যতম চিহ্ন পঞ্চদশ শতকের এই তরুণী। জোয়ানের জন্ম দঁরেমি গ্ৰামে। লেখাপড়া জানতেন না। ফ্রান্স সেই সময় ইংরেজদের দখলে। ১৩ বছর বয়সে ভেড়ার পাল চড়াতে গিয়ে একদিন দৈববাণী শুনতে পেলেন জোয়ান। কে যেন তাঁকে বলছে, তুমিই দেশকে স্বাধীন করতে পারবে। রণাঙ্গনে নেমে পড়। এই কথা শুনে রীতিমতো বিস্মিত হয়ে গেলেন কিশোরী। ফ্রান্সের রাজা তখন সপ্তম চার্লস। অনেক চেষ্টার পর তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন জোয়ান। প্রথমে কিশোরীকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি সম্রাট। পরে ধর্ম যাজকদের কথায় জোয়ানকে সেনাবাহিনীর সদস্য করলেন। পুরুষদের মতো যোদ্ধার বেশে সেজে উঠলেন ফ্রান্সের এই বীর কন্যা। ১৪২৯ সালের ২৮ এপ্রিল ৪ হাজার সৈন্য নিয়ে প্রবেশ করলেন অরলেয়াঁরে। নিজের চেষ্টায় এই অবরুদ্ধ নগরীকে মুক্ত করলেন জোয়ান। এরপর একের পর এক নগরীকে ইংরেজদের হাতে থেকে ছিনিয়ে আনলেন। সম্রাট চার্লসকে তাঁর সিংহাসন ফিরিয়ে দিলেন। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। হঠাৎ একদিন প্যারিসের কাছে বার্গেডিয়ানদের হাতে বন্দি হলেন জোয়ান। বার্গেডিয়ানের ডিউক ছিলেন ইংরেজদের বন্ধু। তিনি জোয়ানকে তাদের হাতে তুলে দিলেন। শুরু হল বিচার। ধর্ম যাজকরা বললেন, পুরুষের সাজে যুদ্ধে নেমে ধর্মের অবমাননা করেছেন জোয়ান। তাই সে ডাইনি। বিচার শেষে জোয়ানকে পুড়িয়ে মারার সাজা ঘোষণা করা হল। সেটাই হল। জোয়ানের চিতাভস্ম ভাসিয়ে দেওয়া হল ফ্রান্সের শ্যেন নদীতে। তবে তাঁর নাম ইতিহাসের পাতা থেকে মুছতে সক্ষম হয়নি শত্রুপক্ষ। আজও ফ্রান্সের মুক্ত সংগ্ৰামের অন্যতম নক্ষত্র জোয়ান অব আর্ক।



