Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জঞ্জাল পোড়ানো রুখতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি, যথেচ্ছ মিস্ট ক্যাননে রাশ

জঞ্জাল পোড়ানো রুখতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি, যথেচ্ছ মিস্ট ক্যাননে রাশ
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে দূষণ কমাতে কী কী করণীয়, তা জানতে বসু বিজ্ঞান মন্দিরের (বোস ইনস্টিটিউট) বিশেষজ্ঞ অধ্যাপককে দিয়ে সমীক্ষা করিয়েছিল কলকাতা পুরসভার পরিবেশ বিভাগ। ওয়ার্ডভিত্তিক সেই সমীক্ষার রিপোর্ট সম্প্রতি পুরসভার কাছে জমা পড়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শহরের বিভিন্ন জায়গায় শুকনো পাতা, জঞ্জাল, কাঠকয়লা ইত্যাদি পোড়ানোর ফলে দূষণ বাড়ছে। এই কাজ বন্ধ করতে গেলে ড্রোনের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে। সেই সঙ্গে মিস্ট ক্যাননের ব্যবহারে রাশ টানার পরামর্শ দিয়েছেন বোস ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডঃ অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, ধুলো কমাতে মিস্ট ক্যাননের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ হওয়া দরকার। এতে ধূলিকণা খুব একটা কাবু হয় না। বরং টাকা ও জলের অপচয় হয়। অধ্যাপক বলেন, ‘একমাত্র কোনও নির্মাণস্থল, যেখানে প্রচুর ধুলো উড়ছে, সেখানেই শুধু মিস্ট ক্যানন ব্যবহার হওয়া উচিত।’ কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, শহরের কোথায় কীভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, তার একটি ওয়ার্ডভিত্তিক রিপোর্ট জমা পড়েছে।
Advertisement
বর্তমানে পুরসভা নিয়মিত রাস্তা ধোয়া ও গাছে জল দেওয়ার কাজ করছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, শহরের রাস্তায় দিনে দু’বার ওয়াটার স্প্রিংকলার ব্যবহার করতে হবে। সকাল ৭টা থেকে ৯টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত নিয়মিত ওয়াটার স্প্রিংকলার দিয়ে রাস্তা ধোয়া এবং গাছে জল দেওয়ার কাজ করতে হবে। পুরসভার পরিবেশ বিভাগের মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার বলেন, ‘আমরাই ওঁদের সমীক্ষা করার দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কোথায় কী পদক্ষেপ করা হবে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত পরামর্শ মিলেছে। রিপোর্ট দেখে নিশ্চয়ই সেইমতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 
শুধুমাত্র মিস্ট ক্যানন নয়, পুরসভাকে মেকানিক্যাল সুইপার অর্থাৎ রাস্তাঘাট ঝাঁট দেওয়ার স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ব্যবহার শীতকালে বন্ধ রাখার পরামর্শও দিয়েছেন অভিজিৎবাবু। কারণ, তাতে রাস্তা পরিষ্কার হলেও বাতাসে প্রচুর ধূলিকণা মিশছে। ফলে লাভের লাভ কিছু হচ্ছে না। উল্লেখ্য, এই রিপোর্টে শহরের ১৪৪টি ওয়ার্ডকে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। বাতাসে ধূলিকণা কমানো এবং জঞ্জাল, পাতা পোড়ানো, প্রকাশ্যে আগুন জ্বালিয়ে উত্তাপ পোহানো—এই বিষয়গুলির নিরিখে ওয়ার্ডগুলিকে ভাগ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী কোন কোন ওয়ার্ডে ওয়াটার স্প্রিংকলার ব্যবহার হবে, কোথায় লাগাতার পুলিস ও ড্রোনের নজরদারি প্রয়োজন, সবটাই উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
সম্পর্কিত সংবাদ