Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জিনাত-সঙ্গ লাভে ব্যর্থ, বাঘ ফের ঝড়খণ্ডে, স্বস্তিতে বনদপ্তর

জিনাত-সঙ্গ লাভে ব্যর্থ, বাঘ ফের ঝড়খণ্ডে, স্বস্তিতে বনদপ্তর
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: অনেক খোঁজাখুঁজি। অনেক দৌড়ঝাঁপ। সকালে এক জঙ্গল তো বিকেলে অন্য জঙ্গলে। কিন্তু জিনাত সঙ্গ-লাভের আশা আর পূরণ হয়নি। হবেই বা কী করে! জিনাত তো এখন বন্দিদশা কাটিয়ে ওড়িশায়। ফলে, হতাশ হয়ে ফের নিজের ঘরেই ফিরল রয়্যাল বেঙ্গল। রাজ্য বনদপ্তর প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত, সোমবার রাতেই বাংলা ছেড়ে ঝাড়খণ্ডে পালিয়েছে বাঘ। তবে, সে আবারও ফিরে আসতে পারে। এমন সম্ভাবনার কথা একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না বনকর্তারা। বর্তমানে বাঘটি ঝাড়খণ্ডের দলমা এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছে। জিনাতকে খোঁজার ফাঁকে সে একবার নিজের গড়ে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু জঙ্গলহমলের টানে ফের এরাজ্যে চলে আসে। তাই আবারও বাঘটি ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, আপাতত সে ঝাড়খণ্ডে চলে যাওয়ায় জঙ্গলমহলবাসী চিন্তামুক্ত। খানিক স্বস্তিতে বনদপ্তরও। 
Advertisement
রাজ্যের মুখ্য বনপাল (কেন্দ্রীয় চক্র) এস কুলান ডেইভাল বলেন, ‘মঙ্গলবার জামসেদপুর এলাকার বিভাগীয় বনাধিকারিকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। দলমা এলাকায় বাঘটির ফিরে যাওয়ার বিষয়টি সেখানকার বনদপ্তর আমাদের নিশ্চিত করেছে। এদিন সেটি এরাজ্যের সীমানা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। তবে এর আগেও ঝাড়খণ্ডে বাঘটি চলে যাওয়ার পরও আমাদের এলাকায় ফিরে আসে। ফলে আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের ডিএফওদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে বলা হয়েছে।’ 
জিনাতের পথ ধরেই বাঘটি ঝাড়খণ্ড থেকে ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়া হয়ে বাঁকুড়ায় আসে। গত কয়েকদিন সেটি রানিবাঁধ, বারিকুল, রাইপুর, সারেঙ্গার একাধিক জঙ্গলে দাপিয়ে বেড়ায়। জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলির রাস্তায়, মাঠেঘাটে ডোরাকাটার পায়ের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। তবে, বাঘটি লোকালয়ে হানা দেয়নি। এমনকি জিনাতের মতো সেটি জঙ্গলে চরতে যাওয়া গবাদি পশুও শিকার করেনি। সেই কারণে বাঘটিকে বনকর্তারা ‘ভদ্র’ বলে আখ্যা দেন। তবে ‘সোঁদরবনের মহারাজকে’ নিয়ে গত কয়েকদিন যে তাঁদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল, তা বনদপ্তরের কর্মী-আধিকারিকরা স্বীকার করে নিয়েছেন। 
রাইপুরের বাসিন্দা অনিমা চক্রবর্তী, রানিবাঁধের কুন্তল বেসরা বলেন, ‘জিনাতকে নিয়ে প্রথমদিকে আমাদের কৌতূহল ছিল। জিনাত খাঁচাবন্দি হওয়ার পর অনেকে আলোচনা করেছিলেন—ওকে জেলায় রেখে দিলেই ভালো হতো। তবে এই বাঘটি এলাকায় দাপিয়ে বেড়ানোর সময় জঙ্গলমহলজুড়ে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। আমরা গত ক’দিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। বাঘটি ঝাড়খণ্ডে ফিরে যাওয়ায় চিন্তামুক্ত হয়েছি। ফের যাতে বাঘটি এলাকায় না আসে, তা বনদপ্তরকে নিশ্চিত করতে হবে। রয়্যাল বেঙ্গল বলে কথা! তার সঙ্গে কেই-ই বা ঘর করতে চায় বলুন!’
বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বাঘটিকে নিয়ে গত ক’দিন ধরে আমরা বেশ উদ্বেগে ছিলাম। স্যাটেলাইট কলার না থাকায় বাঘের অবস্থান জানা যাচ্ছিল না। প্রতিদিনই সকালে জঙ্গলমহলের কোনও না কোনও গ্রাম থেকে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়ার খবর আসছিল। তৎক্ষণাৎ স্থানীয় রেঞ্জারদের এলাকায় ছুটতে হচ্ছিল। পায়ের ছাপ পরীক্ষা করতে না করতেই অন্য এলাকা থেকে কেউ আবার বাঘকে চাক্ষুষ করার দাবি জানাচ্ছিলেন। এভাবে বাঘটি জঙ্গলমহলজুড়েই আমাদের কার্যত চরকিপাক খাইয়েছে। ঝাড়খণ্ডে ফিরে যাওয়ায় আমরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। সেটি আর জেলায় না ঢুকলেই মঙ্গল। তবে ‘বনের রাজার’ মতিগতি বোঝা দায়। সে জেলা বা রাজ্যের সীমানাকে তোয়াক্কা করে না। আপন খেয়ালেই বনে-বাদাড়ে বিচরণ করে। খিদে পেলে নরমাংসের মতো সুষম খাদ্য তার কাছে কী আর থাকতে পারে! 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ