Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গলমহলে হাতির তাণ্ডব, ব্যাপক ক্ষতির মুখে চাষিরা  

জঙ্গলমহলে হাতির তাণ্ডবে সর্ষেচাষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আর এতেই মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। একইসঙ্গে হাতির ভয়ে বাড়ি থেকে বেরতে ভয় পাচ্ছেন একাধিক গ্রামের মানুষ। একইসঙ্গে গ্রামের মানুষ জঙ্গলে যেতেও ভয় পাচ্ছেন।

জঙ্গলমহলে হাতির তাণ্ডব, ব্যাপক ক্ষতির মুখে চাষিরা
 
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: জঙ্গলমহলে হাতির তাণ্ডবে সর্ষেচাষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আর এতেই মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। একইসঙ্গে হাতির ভয়ে বাড়ি থেকে বেরতে ভয় পাচ্ছেন একাধিক গ্রামের মানুষ। একইসঙ্গে গ্রামের মানুষ জঙ্গলে যেতেও ভয় পাচ্ছেন। হাতি ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন জঙ্গলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, হাতির দল জঙ্গলে খাবার না পেয়ে চাষের জমিতে তাণ্ডব চালাচ্ছে। মেদিনীপুর ও রূপনারায়ণ ডিভিশনে হাতির আক্রমণে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। মাঝে হাতির পরিমাণ কম ছিল। বনদপ্তর কোনও পদক্ষেপ করতে পারছে না। হাতির সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে বহু মানুষ চাষ ছেড়ে অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত হতে বাধ্য হবেন। 
Advertisement
এদিন গোদা পিয়াসাল এলাকার চাষি সুরজিৎ মণ্ডল বলেন, জঙ্গলমহলের বহু মানুষ জঙ্গলের উপর নির্ভরশীল। অনেকেই পাতা-কাঠ সংগ্রহ করে। কিন্তু বর্তমানে হাতির ভয়ে জঙ্গলে যেতেই পারছেন না গ্রামবাসীরা। হাতির গতিবিধি বোঝা যাচ্ছে না। এর ফলে বিপদও ঘটছে। বনদপ্তরের উচিত হাতির সমস্যার দ্রুত সমাধান করা। 
প্রসঙ্গত, বর্তমান সময়ে জঙ্গল মহলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হাতি। এনিয়ে জেলা সফরে এসেও জঙ্গলমহলের হাতির সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ হাতির হানায় ফসলের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি বাড়ি ভাঙছে, এমনকী সাধারণ মানুষেরও মৃত্যু হচ্ছে। 
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে পর্যন্ত প্রায় ১০টি হাতির একটি দল ছিল মেদিনীপুর বনবিভাগ এলাকায়। বর্তমানে ৪২টি হাতি রয়েছে। একইসঙ্গে গত এক সপ্তাহে হাতির হানায় জেলায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণে ধান, সর্ষে, শীতকালীন সব্জি চাষের ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর ডিভিশনের চাঁদড়া, সুন্দরলটা, হেতাশোল, ভালুকখুলিয়া, জয়নারায়ণপুর, বেনাগেরিয়া সহ একাধিক এলাকায় হাতি রয়েছে। টুংনি এলাকায় রয়েছে সবচেয়ে বেশি হাতি। অপরদিকে রূপনারায়ণ ডিভিশন এলাকার গোয়ালতোড়, জঙ্গলখাস (মোহনপুর), হুমগড়, হদহদি, আসনাসুলি সহ বিভিন্ন এলাকায় হাতি রয়েছে। রূপনারায়ণ বনবিভাগের ডিএফও শিবাননন্দ রাম বলেন, দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ