Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গলমহলে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা

জঙ্গলমহলে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে জঙ্গলমহলের অন্যতম জেলা বাঁকুড়ার নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা রুখে দিতে বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে বাঁকুড়া জেলা পুলিসের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। জেলা পুলিসের পাশাপাশি জিআরপি তিনদিন আগে থেকে বিশেষ চেকিং অভিযান শুরু করেছে। বাঁকুড়া স্টেশন চত্বরকে নিরপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে বলে রেলপুলিসের কর্তারা জানিয়েছেন। 
Advertisement
উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের আনাগোনার খবর পাওয়া গিয়েছিল। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার সীমানা ঘেঁষা গভীর জঙ্গলে মাওবাদী গতিবিধি টের পেতেই পুলিস সজাগ হয়। পুলিসি সক্রিয়তার বিষয়টি জানতে পেরে মাওবাদীরা গা ঢাকা দেয়। জেলা পুলিস ও গোয়েন্দা কর্তারা বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। ফলে এবারের সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে পুলিস নারাজ। 
বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, বাঁকুড়ার মাটি ব্যবহার করে কেউ যাতে নাশকতামূলক বা দেশবিরোধী কোনও কাজ করতে না পারে, তারজন্য আমরা সতর্ক রয়েছি। সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। 
বাঁকুড়া জিআরপি-র ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অজয় মুখোপাধ্যায় বলেন, স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নাকা চেকিং করা হয়। স্টেশন চত্বরে আসা গাড়ির ডিকি খুলে পরীক্ষা করা হয়। এদিনের অভিযানে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে এই অভিযান টানা বেশ কয়েকদিন ধরে চলবে। উল্লেখ্য, রাজ্যের জঙ্গলমহলে ফের জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে মাওবাদীরা। সুযোগ পেলেই অ঩তি বাম নেতাকর্মীরা জঙ্গলমহলে ঘাঁটি গাড়বে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। লোকসভা ভোটের আগে থেকেই বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের সীমানা ঘেঁষা দুর্গম এলাকাগুলিতে মাওবাদীদের আনাগোনা শুরু হয়। মাস তিনেক আগে মাও অধ্যুষিত রাইপুর থানা এলাকার দুই জায়গায় মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার পড়ে। গত বছরের শুরুতে পুরুলিয়া জেলা পুলিসের হাতে মাওবাদী নেতা কিশোর দা গ্রেপ্তার হয়। মাও গতিবিধি জানতে বাঁকুড়া জেলা পুলিসের তরফে থানাগুলিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় কড়া নজর রাখার জন্য সিভিক ভলান্টিয়ারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, লোকসভা ভোটের আগে মাওবাদীদের কয়েকটি দল বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে এসেছিল। প্রতিটি দলে চার-পাঁচজন করে ছিল। তারা এলাকার বাসিন্দাদের কাছে বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে নিজেদের নীতি-আদর্শ প্রচারের চেষ্টা করে। তবে বাসিন্দাদের কাছ থেকে সেভাবে সাড়া না পেয়ে সকলেই ফিরে গিয়েছে। ভোটের পর অবশ্য আমাদের কাছে ওই ধরনের কোনও খবর নেই। থানার মাধ্যমে জঙ্গলমহলের সিভিক ভলান্টিয়ারদের সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। বাইরের লোকজনের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে পড়ামাত্র থানায় জানাতে বলা হয়েছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ