Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জিন্দালদের ১৬ হাজার কোটির পাওয়ার প্ল্যান্ট ঘোষণা, স্বপ্ন দেখা শুরু শালবনীর

জিন্দালদের ১৬ হাজার কোটির পাওয়ার প্ল্যান্ট ঘোষণা, স্বপ্ন দেখা শুরু শালবনীর
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
রাজদীপ গোস্বামী, শালবনী: শালবনীতে পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরির কথা ঘোষণা করেছে জিন্দাল গোষ্ঠী। এই প্ল্যান্ট তৈরির জন্য ১৬হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এই ঘোষণা হতেই শালবনী ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন। কারখানা তৈরি হলে এলাকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান হবে।
Advertisement
স্থানীয়রা জানালেন, জিন্দালদের অধিগৃহীত জমির প্রায় ৯০শতাংশ পড়ে রয়েছে। সেই জমিতে কারখানা তৈরির প্রতিশ্রুতি মিলেছিল। কিন্তু তা বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। তাই এবার যেন পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরিতে পদক্ষেপ করা হয়, সেই দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।
শালবনী জমিদাতা কমিটির সম্পাদক পরিষ্কার মাহাত বলেন, যে কোনও এলাকায় কারখানা তৈরি হলে এলাকার অর্থনীতি বদলে যায়। জিন্দালরা একটিমাত্র সিমেন্ট কারখানা তৈরি করেছে। বাকি জমিতে কবে কারখানা হবে কেউ জানে না। তবে পাওয়ার প্ল্যান্টের কথা শুনে আশা জাগছে। জিন্দালরা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বহু বছর ধরেই শালবনীর বাসিন্দারা শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখছেন। বাম আমলে ২০০৭সালে জিন্দালদের হাত ধরে এশিয়ার বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এতে স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের আশা জেগেছিল। সেজন্য কুলফেনী, আসনাশুলি, গাইঘাট সহ প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ জমিদান করেছিলেন।
জিন্দালরা সরকারি, রায়ত, পাট্টার জমি মিলিয়ে প্রায় ৪৩০০ একর জমি নিয়েছিল। ২০০৮সালের ২ নভেম্বর কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। শালবনী থেকে মেদিনীপুরে ফেরার পথে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ঘটে। সেসময় মাওবাদীদের তাণ্ডবে কারখানা তৈরি স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ২০১৩ সাল নাগাদ কারখানার দাবিতে লাগাতার আন্দোলন শুরু হয়। তার জেরে সেই জমির সামান্য অংশে সিমেন্ট কারখানা গড়া হয়। এখন স্থানীয় বাসিন্দারাও সেই কারখানায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এখানে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও কারখানা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবে রূপায়িত হয়নি।
জিন্দালদের সিমেন্ট কারখানার কাছেই স্থানীয় মঙ্গল মানার চায়ের দোকান। তিনি বলেন, কাছে কারখানা থাকায় ভালোই বিক্রিবাটা হয়। আমরা সবাই চাই, এখানে আরও শিল্প হোক। তা হলে ক্ষুদ্র দোকানদার, ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। কর্মসংস্থানও হবে। তাই এখানে পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি, এবার এই এলাকা কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে।
এলাকার অপর বাসিন্দা আদিত্য মাহাত বলেন, প্রতিটা গ্রামেই বেকার যুবক-যুবতী রয়েছেন। তাঁরা কাজ করতে চাইছেন। কারখানা হলে এলাকার অর্থনীতি বদলে যাবে। আর এই জমিটা তো পড়েই রয়েছে। না হল শিল্প, না হল চাষ। তাই এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ