Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জনবার্তার স্টলে গেরুয়া গামছায় অধিষ্ঠিত দেবী সরস্বতী, বাম গ্যালারিতে অবন ঠাকুরের থেকে পিছিয়ে পড়ছে মার্কসবাদী বই

জনবার্তার স্টলে গেরুয়া গামছায় অধিষ্ঠিত দেবী সরস্বতী, বাম গ্যালারিতে অবন ঠাকুরের থেকে পিছিয়ে পড়ছে মার্কসবাদী বই
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
বপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: যে ভিড় হবে বলে আশা করা হচ্ছিল, সোমবার বইমেলায় তার কয়েক গুণ বেশি ভিড়। একে ছুটির দিন। তায় সরস্বতী পুজো বলে উৎসবের আমেজ। ফলে দুপুর থেকেই জমকালো চেহারা মেলামাঠের। 
Advertisement
এই জমজমাট ভিড়েও বেমানান চেহারা বিজেপি প্রভাবিত পত্রিকা ‘ভারতীয় জনবার্তা’র স্টলের। দুপুরে সেখানে একজন মাত্র দর্শক। তিনি নেড়েচেড়ে দেখছিলেন প্রথম পাতাটি। তাতে লিড স্টোরি ‘ক্ষুদ্র শিল্পে বাংলাই শ্রেষ্ঠ ঘাঁটি: জিতেন রাম’। দেখে খানিক চমকেই গেলেন। এই স্টলে সরস্বতী পুজো করেছেন উদ্যোক্তারা। সরস্বতী বসে রয়েছেন গেরুয়া গামছার উপর। হাতে বীণা। স্টলের পাশ দিয়ে যেতে যেতে কয়েকজনের কটাক্ষ-‘গেরুয়াকরণ আর কাকে বলে!’
এর কিছু দূরে সিপিএমের মুখপত্রের স্টল। সেখানে বরাবরই আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে খবরের কাগজের কাট আউট। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আগুনঝরা লেখা প্রদর্শিত হয়। এবারও তা আছে। সঙ্গে গ্যালারিতে রাখা ‘ফ্যাসিবাদ, অতীত ও বর্তমান’, ‘রাষ্ট্র ও বিপ্লব’, ‘কার্ল মার্কস জীবনী’, ‘নাৎসি জার্মানির জন্ম ও মৃত্যু’র মতো চেনা বই। তবে মজার কথা সেগুলির চেয়ে ঢের বেশি সংখ্যায় রয়েছে পুরাণের গল্প, মহাভারতের গল্প, ছোটদের রামায়ণ, ক্ষীরের পুতুল, নকশি কাঁথার মাঠ ইত্যাদি। পাঠকের আগ্রহ সেসব ঘিরেই। বামপন্থার তত্ত্বকথার থেকে সে দিকে বেশি মনযোগ পাঠকদের। 
এবার বইমেলায় বাংলাদেশের স্টল নেই-‘তাহলে সাদাত হোসাইনও তো আসবেন না, তাই না?’ সপ্তম দিনে প্রথম মেলামাঠে এসে মুখ শুকনো করে প্রশ্ন তরুণীর। বিকাল গড়িয়ে তখন সন্ধ্যা নামার মুহূর্ত। বন্ধুর সঙ্গে তরুণী দাঁড়িয়ে আমেরিকান স্টলের পিছন দিকে। সেখানেই অন্যান্যবার বড় প্যাভিলিয়ন হয় বাংলাদেশের। তরুণীর বন্ধু জবাব দিলেন, ‘সাদাত হোসাইন মেলায় এলে তো এতক্ষণে লম্বা লাইন পড়ে যেত গো। গতবারের ছবি মনে আছে? প্যাভিলিয়নের বাইরে টেবিল পেতে বসে ছিলেন সাদাত, আর শ’তিনেক লোক সই নিতে লাইন দিয়েছিল। সত্যিই এবার মিস করছি সেসব।’ হলুদ শাড়ি-হলুদ পাঞ্জাবি পরা অন্য এক যুগল পাশে দাঁড়িয়ে। তরুণীর বক্তব্য, ‘একটা জিনিস খুব মিস করছি এবার। কী বলতো? সরকারি জলের পাউচগুলো দেখতে পাচ্ছি না। পাউচের একটাও ড্রাম দেখলাম না। জল খাবো কোথায়?’
সেখান থেকে খানিক হেঁটে ‘জাগো বাংলা’ স্টল। এবারও বইমেলার মধ্যমণি। সেখানে বইয়ের সঙ্গে দর্শকের আগ্রহ বাউল গান শোনার দিকেও। চলছে দেদার সেলফি। এর পাশাপাশি উপচে পড়ল শিশু ও কিশোর সাহিত্যের স্টলগুলি। নতুন প্রজন্মের হাতেও নাসিরুদ্দিনের গল্প, শার্লক হোমস, সেরা সত্যজিৎ। লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে লীলা মজুমদার, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর বই কিনলেন মানুষ। স্কুল পড়ুয়ারা ইংরেজি প্রকাশনার স্টলগুলিতে সময় কাটিয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। হাতে নিয়ে মন দিয়ে দেখেছে কমিকস, সায়েন্স ফিকশন ও প্রযুক্তির বই। বহু পাঠক কিনেছেন সুনীল-শীর্ষেন্দু-সুচিত্রা। বিক্রেতাদের অনেকের বক্তব্য, আশ্চর্য লাগছে, রবীন্দ্রনাথ-শরৎ-বঙ্কিম তেমন বাজার দিচ্ছেন না।
বইমেলার মাঠ ও মাঠের বাইরে খাবারদাবারের অভাব নেই। আচার থেকে মিষ্টি দই কি নেই। মানুষের প্রবল আগ্রহ সেসব ঘিরে। কিন্তু শেষ হাসি হাসছে বই। মেলায় গিয়ে প্রায় প্রত্যেকেই কিছু না কিছু বই কিনে বাড়ি ফিরেছেন। বইমেলা সর্বদা রঙিন ও উজ্জ্বল। মানুষের আগ্রহ ও ভালোবাসায় ফি বছর তা আরও বাড়তি রং পায়। মাইকে দিনভর ‘ওই ডাকছে বই’ থিম সঙ’ এদিন শোনা যায়নি বটে তবে বই নিজের গুণেই কাছে ডেকে নিয়েছে মানুষকে। বাঙালির শীত শেষের পার্বণ সবমিলিয়ে বসন্ত পঞ্চমীর মতোই ঝলমল করেছে দুপুর থেকে রাত। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ