নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: গ্রামীণ রাস্তার উপর ছুটছে বালি, পাথর, কয়লা বোঝাই লরি, রাস্তা ভেঙে চৌচির। প্রশাসনিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই নিরাশ জামুড়িয়াবাসীর মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সাহস জোগানোয় দুয়ারে সরকার ক্যাম্প জেলাশাসকের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন জামুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, সহকারী সভাপতি, কর্মাধ্যক্ষরা। তারপরই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। বুধবারই অতিরিক্ত জেলাশাসক অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিশেষ টিম এলাকা পরিদর্শন করেছে। গ্রামীণ এলাকায় ভারী গাড়ি যাতায়াতে যেমন কড়াকড়ি করা হচ্ছে তেমনি ভারী গাড়ি চলাচল করার জন্য বিকল্প রাস্তার সন্ধানও শুরু হয়েছে।
Advertisement
ভাঙাচোর রাস্তাঘাট নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে জামুড়িয়াবাসী। ইকড়া থেকে দামোদরপুর যাওয়ার রাস্তা ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে বেসরকারি কারখানার ভারী গাড়ি চলাচলে। একই অবস্থা রানিসায়ের-জামুড়িয়া রাস্তার। চুরুলিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় আবার বেপরোয়া বালি, কয়লার কারবার। দৈত্যাকার বালির গাড়ি যাতায়াতের ফলে চিচুড়বিল, লোদা, দেশেরমোহন, তালডাঙায় রাস্তার কোনও অস্তিত্ব নেই। অভিযোগ, জেলা পরিষদ ওই এলাকার মাধবপুর থেকে লোদা পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা তৈরি করার ১৫ দিনের মধ্যে রাস্তার কঙ্কাল বেরিয়ে পড়ে। বীরকুল্টি এলাকায় আবার স্টোন ডাস্ট ক্র্যাশারের মাত্রাতিরিক্ত দাপাদাপি। অভিযোগ, স্টোন ক্র্যাশারের নামে এইসব জায়গা থেকে কয়লা পাচার হয়। বীরকুল্টি এলাকার রাস্তার উপর বেপরোয়া বালির গাড়ি চলাচল করে বলেও অভিযোগ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এনিয়ে আন্দোলন করতে গেলে ভুয়ো মামলা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এই অবস্থায় প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি তুলে রাজ্য পুলিসের ডিজিকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। এমনকী তিনি যে স্থানীয় প্রশাসনকেও রেয়াত করবেন না, তা স্পষ্ট করে দেন। এই বার্তা পাওয়ার পরই স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি নিজেদের গা বাঁচাতে পুরো বিষয়টি জেলাশাসক পোন্নমবলম এসকে জানায়। তারপরই এনিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে। একদিকে ব্যবসায়ীদের জন্য তালডাঙা ঘাট থেকে দেশেরমোহন শ্মশান পর্যন্ত বিকল্প রাস্তার ভাবনা করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কগুলি যাতে ভেঙে না পড়ে, তা নিয়ে কড়াকড়ি করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি রাজস্ব) অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গ্রামীণ সড়কগুলি ভারী গাড়ি যাতায়াত করার জন্য নয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে এনফোর্সমেন্ট বাড়িয়েছি। বিকল্প রাস্তারও সন্ধান করা হচ্ছে। জামুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ জগন্নাথ শেঠ, অনিমেষ বন্দ্যোপাধ্যায়রা বলেন, গ্রামের রাস্তারগুলি ভেঙে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দলনেত্রী মানুষের এই সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছেন। আমরাও জেলাশাসকে বিষয়গুলি জানিয়েছি।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি রাজস্ব) অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গ্রামীণ সড়কগুলি ভারী গাড়ি যাতায়াত করার জন্য নয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে এনফোর্সমেন্ট বাড়িয়েছি। বিকল্প রাস্তারও সন্ধান করা হচ্ছে। জামুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ জগন্নাথ শেঠ, অনিমেষ বন্দ্যোপাধ্যায়রা বলেন, গ্রামের রাস্তারগুলি ভেঙে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। আমাদের দলনেত্রী মানুষের এই সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছেন। আমরাও জেলাশাসকে বিষয়গুলি জানিয়েছি।



