Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দক্ষিণবঙ্গে ফের সক্রিয় জেএমবি’র স্লিপার সেল, বিশেষ অ্যাপে চলছে কিশোরদের মগজধোলাই

দক্ষিণবঙ্গে ফের সক্রিয় জেএমবি’র স্লিপার সেল, বিশেষ অ্যাপে চলছে কিশোরদের মগজধোলাই
  • ১৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর কোমর ভেঙে গিয়েছিল জামাত-উল-মুজাহিদ্দিন বাংলাদেশ বা জেএমবির। সংগঠন ভেঙে দু’-টুকরো হয়ে যায়। আদি ও নব্যদের নিয়ে আলাদা আলাদা সংগঠন তৈরি হয়। পরে আদিদের সংগঠন ভেঙে আনসারুল্লা বাংলা টিমের মতো একাধিক সংগঠন তৈরি হয়। কিন্তু সংগঠনের সেই শক্তি তারা হারিয়ে ফেলে। মাঝে গোয়েন্দারা এই সংগঠনেরও সদস্যদের পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাকড়াও করে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ফের জেএমবি ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দক্ষিণবঙ্গজুড়ে তারা স্লিপার সেল সক্রিয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমেই তারা এই কাজ করছে। মগজ ঢোলাইয়ের জন্য তারা কিশোরদের টার্গেট করেছে। বীরভূম থেকেই দুই জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে তারা এমনই তথ্য পেয়েছে। তবে, তারা জেএমবির বদলে অন্য নামে সংগঠন বিস্তার করেছে। যদিও সংগঠনের মাথার উপর জেএমবির মাস্টারমাইন্ডরা রয়েছে। নতুন করে জাল বিছানো এই সংগঠনকে দুরমুশ করতে গোয়েন্দারা কোমর বেঁধে নমেছে। 

Advertisement

গোয়ন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে জেএমবি আগেই স্লিপারসেল তৈরি করেছে। এবার তারা দক্ষিণবঙ্গকে টার্গেট করেছে। এক আধিকারিক বলেন, জেএমবির অন্যতম মূল উদ্দেশ্য ছিল হাসিনা সরকারের পতন। সেই উদ্দেশ্য তাদের সফল হয়েছে। হাসিনা জমানায় তারা সেভাবে বাংলাদেশে মাথা তুলতে পারেনি। এপারে তারা সংগঠন মজবুত করতে থাকে। এরাজ্যে তারা সংগঠন তৈরি করলেও তাদের আক্রমণের লক্ষ্য থাকত হাসিনা সরকার। এখন তাদের উদ্দেশ্যে বদলে গিয়েছে। এদেশে অস্থিরতা তৈরি করা তাদের মূল উদ্দেশ্য। জেএমবির পাশাপাশি আনসারউল্লাহ বাংলা টিমও তাদের সংগঠন বিস্তার করে চলছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে তাদের শিকড় অনকটাই বিস্তার করেছে। এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলিও গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছে। পুলিসও নজরদারি বাড়িয়েছে। খাগড়াগড়ের মতো ঘাঁটি যাতে তৈরি না হয় তা নিয়ে প্রতিটি জেলার পুলিসকেও সতর্ক করা হয়েছে। আর এক আধিকারিক বলেন, এখনই তারা কোথাও বিস্ফোরণ বা হামলা চালানোর মতো পরিকল্পনা করেনি। তবে মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের মতো কোথাও ঘটনা হলে তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, সামসেরগঞ্জে হামলার পিছনে একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাদেরকে জেএমবি বা আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের মতো সংগঠনগুলিও সহযোগিতা করেছিল। ভবিষ্যতে যাতে এধরনের ঘটনা না হয় সেই কারণে গোয়েন্দারা অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে। সংগঠনের জাল ভিনরাজ্যেও ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের উপরও গোয়ন্দারা নজরদারি চালাচ্ছে। সংগঠনের এরাজ্যের সদস্যদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখতে সেই বিশেষ অ্যাপকেই হাতিয়ার করছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ