নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এগরা সারদা শশীভূষণ কলেজে জমি বিক্রির ঘটনায় উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে চিঠি দিচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। প্রিন্সিপাল হিসেবে দীপককুমার তামলি কলেজের মোট ৩২৪ ডেসিমল জমি বিক্রি করেছেন। এমনকী, তিনি অবসর নেওয়ার দু’দিন আগেও জলের দরে কলেজের জমি বিক্রি করেছেন। গভর্নিং বডিতে রীতিমতো রেজ্যুলিউশন করে আকলাবাদ মৌজায় পর্যায়ক্রমে কলেজের ওই জমি বিক্রি করা হয়েছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক হইচই শুরু হয়। চাপে পড়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি গভর্নিং বডি জরুরি বৈঠক করে মহকুমা শাসককে তদন্তের জন্য চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেইমতো এগরার মহকুমা শাসককে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
এগরার মহকুমা শাসক মনজিৎ যাদব বলেন, এগরা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি একটি চিঠি দিয়েছেন। আমরা এনিয়ে উচ্চ শিক্ষা দপ্তরকে চিঠি দিচ্ছি। তাদের নির্দেশ ছাড়া এই ইস্যুতে মহকুমা প্রশাসনের বিশেষ করণীয় নেই। এগরা মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কলেজ একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে র্যাগিং, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়, শারীরিক নিগ্রহের মতো ঘটনা ছাড়া সেই অর্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। উচ্চ শিক্ষা দপ্তর নির্দেশ দিলে যেকোনও বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব। তাই গভর্নিং বডি জমি বিক্রির ঘটনায় মহকুমা শাসককে তদন্ত করার জন্য চিঠি দিলেও এনিয়ে কোনও পদক্ষেপ নিতে পারে না প্রশাসন। কারণ, গোটা বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল গভর্নিং বডি। তাই তারা প্রশাসনকে একটি চিঠি লিখে হাত ধুয়ে ফেলছে। এই অবস্থায় প্রশাসন বিষয়টি উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের নজরে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেইমতো আগামী সোমবার উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি এগরা সারদা শশীভূষণ কলেজ থেকে অবসর নেন প্রিন্সিপাল দীপককুমার তামলি। তার দু’দিন আগে গত ২৮ জানুয়ারি কলেজের নামে থাকা এগরা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আকলাবাদ মৌজায় রাজ্য সড়কের ধারে দু’টি প্লটে জমি বিক্রি করা হয়। দলিলে উল্লেখ, জমির বর্তমান মূল্যের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ কম দামে বিক্রি করা হয়েছে। একটি জমি কিনেছেন এগরা শহর তৃণমূলের সভাপতি উদয় পালের শাশুড়ি পম্পা নন্দ। অপর জমিটি কিনেছেন এগরা পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির তৃণমূলের সভাপতি গৌতম আচার্যের জামাই কৃষ্ণেন্দু মাইতি। এছাড়াও এগরা পুরসভার জগন্নাথপুর মৌজায় একেবারে জলের দরে ধনঞ্জয় সাউকে ৩৭ ডেসিমল, প্রশান্ত মাইতিকে ২৫ ডেসিমল এবং কানাই গিরিকে ২৫ ডেসিমল জমি বিক্রি করা হয়েছে। প্রতি ডেসিমল মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই তিনজনকে ৮৭ ডেসিমল জমি বিক্রি করা হয়েছে। আরও জানা যায়, ওই প্রিন্সিপ্যাল তাঁর মেয়াদকালে মোট ৩২৪ ডেসিমল জমি বিক্রি করেছেন। সেই টাকা কলেজের নিজস্ব তহবিলে জমা পড়েছে। সেই টাকা থেকে কলেজের ৩২ জন অস্থায়ী কর্মীকে প্রতি মাসে মাইনে দেওয়া হয়। এছাড়াও ন্যাক ভিজিটের সময় কলেজে পরিকাঠামোর কাজে ১ কোটি ২২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। তার একটি বড় অংশ জমি বিক্রির অর্থ থেকে ব্যয় হয়েছে বলে সদ্য অবসর নেওয়া প্রিন্সিপ্যালের দাবি।তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সংগঠনের পক্ষ থেকেও এনিয়ে তদন্ত দাবি করা হয়েছে। বাম জমানাতেও কলেজের জমি বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনাও সামনে আনার দাবি তুলেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি এগরা সারদা শশীভূষণ কলেজ থেকে অবসর নেন প্রিন্সিপাল দীপককুমার তামলি। তার দু’দিন আগে গত ২৮ জানুয়ারি কলেজের নামে থাকা এগরা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আকলাবাদ মৌজায় রাজ্য সড়কের ধারে দু’টি প্লটে জমি বিক্রি করা হয়। দলিলে উল্লেখ, জমির বর্তমান মূল্যের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ কম দামে বিক্রি করা হয়েছে। একটি জমি কিনেছেন এগরা শহর তৃণমূলের সভাপতি উদয় পালের শাশুড়ি পম্পা নন্দ। অপর জমিটি কিনেছেন এগরা পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির তৃণমূলের সভাপতি গৌতম আচার্যের জামাই কৃষ্ণেন্দু মাইতি। এছাড়াও এগরা পুরসভার জগন্নাথপুর মৌজায় একেবারে জলের দরে ধনঞ্জয় সাউকে ৩৭ ডেসিমল, প্রশান্ত মাইতিকে ২৫ ডেসিমল এবং কানাই গিরিকে ২৫ ডেসিমল জমি বিক্রি করা হয়েছে। প্রতি ডেসিমল মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই তিনজনকে ৮৭ ডেসিমল জমি বিক্রি করা হয়েছে। আরও জানা যায়, ওই প্রিন্সিপ্যাল তাঁর মেয়াদকালে মোট ৩২৪ ডেসিমল জমি বিক্রি করেছেন। সেই টাকা কলেজের নিজস্ব তহবিলে জমা পড়েছে। সেই টাকা থেকে কলেজের ৩২ জন অস্থায়ী কর্মীকে প্রতি মাসে মাইনে দেওয়া হয়। এছাড়াও ন্যাক ভিজিটের সময় কলেজে পরিকাঠামোর কাজে ১ কোটি ২২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। তার একটি বড় অংশ জমি বিক্রির অর্থ থেকে ব্যয় হয়েছে বলে সদ্য অবসর নেওয়া প্রিন্সিপ্যালের দাবি।তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সংগঠনের পক্ষ থেকেও এনিয়ে তদন্ত দাবি করা হয়েছে। বাম জমানাতেও কলেজের জমি বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনাও সামনে আনার দাবি তুলেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।



