নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: কয়েকদিন আগে বসিরহাট উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক রফিকুল ইসলাম মণ্ডলের নামে পড়েছিল ‘তৃণমূল সম্মানরক্ষা কমিটি’র পোস্টার। এবার একই ধরনের বিতর্কিত পোস্টার পড়ল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ তথা বাদুড়িয়ার দাপুটে তৃণমূল নেতা বুরহানুল মোকাদ্দিম ওরফে লিটনের নামে। এই পোস্টারগুলিও দিয়েছে ‘তৃণমূল সম্মানরক্ষা কমিটি’। বৃহস্পতিবার সকালে বাদুড়িয়ার রামচন্দ্রপুর পঞ্চায়েত এলাকায় এই পোস্টার ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য টাকা দাবি, পঞ্চায়েত ভোটে টিকিট বিক্রির মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে পোস্টারগুলিতে। এমনকী, দলীয় কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও রয়েছে সেখানে। বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি এড়াতে পারছে না তৃণমূল নেতৃত্ব। বিতর্ক দানা বেঁধেছে শাসক দলের অন্দরেই। ‘তৃণমূল সম্মানরক্ষা কমিটি’ বলে কিছুই নেই বলে দাবি করেছে দলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্ব। বরং পোস্টারের দায় বিজেপির ঘাড়ে চাপিয়েছেন সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল চেয়ারম্যান সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়।
Advertisement
বাদুড়িয়ার রামচন্দ্রপুর এলাকাতেই তৃণমূল নেতা বুরহানুল মোকাদ্দিমের বাড়ি। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদের একটি আসনে জিতে শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ হয়েছেন তিনি। এদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান, রামচন্দ্রপুরের অলিগলি ছেয়ে গিয়েছে একের পর এক বিতর্কিত পোস্টারে। এ বিষয়ে তৃণমূল নেতা লিটন বলেন, ‘এনিয়ে আমার ভাবার সময় নেই। সামনে পার্টির অনেক কর্মসূচি রয়েছে। সেসবে গুরুত্ব দিচ্ছি।’ বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা একটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। বিজেপি কারসাজি করে এটা করছে। বসিরহাট জেলা তৃণমূলের কোনও সম্মানরক্ষা কমিটি নেই।’
বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি পলাশ সরকারের পাল্টা কটাক্ষ, ‘এসব বিষয়ে মুখ খোলা মানেই বোকামি। আসলে গোটা তৃণমূল দলটাই দুর্নীতি ও স্বজনপোষণে ভরা। লিটনের মতো অনেক নেতা এটা করছেন। বিরোধীদের দিকে আঙুল না তুলে তৃণমূল নিজেদের দিকে দেখুক।’
বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি পলাশ সরকারের পাল্টা কটাক্ষ, ‘এসব বিষয়ে মুখ খোলা মানেই বোকামি। আসলে গোটা তৃণমূল দলটাই দুর্নীতি ও স্বজনপোষণে ভরা। লিটনের মতো অনেক নেতা এটা করছেন। বিরোধীদের দিকে আঙুল না তুলে তৃণমূল নিজেদের দিকে দেখুক।’



