নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বয়স যে শুধু সংখ্যামাত্র, আরও একবার তা প্রমাণ করলেন কৃষ্ণা ভৌমিক। ৭০ বছর বয়সেও ‘জলপাইগুড়ি রান’-এ ৫ কিমি দৌড়লেন বনদপ্তরের এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। শহরের দর্জিপাড়ায় বাড়ি। জীবনের সাত দশকে পা রেখেও দিব্যি তরতাজা তিনি। শরীরে বাসা বাঁধতে পারেনি প্রেশার, সুগার কিংবা কোলেস্টেরল। জলপাইগুড়ি উৎসবের শেষ দিনে ১০ কিমি, ৫ কিমি দৌড় এবং ২ কিমি ‘ওয়াক ফর ফান’-এর আয়োজন করে জেলা পুলিস প্রশাসন। বয়সকে কার্যত তুড়ি মেরে উড়িয়ে ৫ কিমি দৌড়ে শামিল হন কৃষ্ণাদেবী। দৌড় শেষে মিলেছে মেডেল। প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় হতে না পারলেও চওড়া হাসি কৃষ্ণাদেবীর মুখে। বললেন, নিজের মনের আনন্দে দৌড়ই। এর আগে শিলিগুড়িতেও রোড রেসে অংশ নিয়েছি। যতদিন বাঁচব, খেলাধুলোর মধ্যে দিয়ে কাটাতে চাই।
কৃষ্ণাদেবীর স্বামী দেবব্রত ভৌমিকও খেলাধুলোর সঙ্গে যুক্ত। এদিন ৫ কিমি দৌড়ে শামিল হন জলপাইগুড়ির গোমস্তাপাড়ার বাসিন্দা ৫৯ বছরের দুলালি রায়। জেলাশাসক শমা পারভীন বলেন, জলপাইগুড়ি উৎসবের অঙ্গ হিসেবে এদিন ওই দৌড়ের আয়োজন করা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান থেকেও প্রতিযোগীরা এসেছিলেন। সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ এবং জাতীয় ভোটার দিবসে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওই দৌড়ের আয়োজন করা হয়। প্রায় হাজার খানেক প্রতিযোগী অংশ নেন।
এদিনের ওই দৌড় প্রতিযোগিতায় সাহায্য নেওয়া হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির। প্রত্যেক প্রতিযোগীর ব্যাজে লাগানো ছিল চিপ। তাতে আগে থেকে রুট ম্যাপ করে রাখা ছিল। রাস্তায় ছিল স্ক্যানার। ফলে কারচুপির কোনওরকম সুযোগ ছিল না। গন্তব্যে পৌঁছনোর পরই মোবাইলে মেসেজ চলে আসে। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিসের মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ ওয়াকার রাজা, জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি নিম্বলকর সন্তোষ উত্তমরাও। জেলার পুলিস সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপত বলেন, ১০ কিমি দৌড়ের পুরুষ বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন ভানুপ্রতাপ আর্য, সন্দীপ দেরারি ও শরদ বিজয় আহিরে। ওই ইভেন্টে মেয়েদের বিভাগে সফল প্রথম তিন জন রুবি কাশ্যপ, কুমারী সঙ্গীতা পাল ও চন্দ্রকলা শর্মা। ৫ কিমি দৌড়ে পুরুষ বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন রবি চৌধুরী, অভিষেক কুমার ও অমল ভুজেল। ওই ইভেন্টে মহিলা বিভাগে সফল প্রথম তিন জন স্নেহা সিং, সঞ্জিতা ওরাওঁ এবং প্রিয়া ছেত্রী।