Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জালনোটের কারবারীরাই হাঙ্গামার পিছনে!

জালনোটের কারবারীরাই হাঙ্গামার পিছনে!
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা কালিয়াচক: শুকদেবপুর সীমান্তে হাঙ্গামার নেপথ্যে ছিল জালনোট পাচারকারীরা! কালিয়াচকের শুকদেবপুর সীমান্তে বারবার উত্তেজনা ছড়ানোয় এমনটাই অনুমান করছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের সন্দেহ, গ্রামবাসীদের নিয়ে বিএসএফ সীমান্তে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যার জেরে বাংলাদেশের জেহাদি সংগঠনের মদতপুষ্ট পাচারকারীরা এপারে জালনোট পাচার করতে পারছে না। বাধা পেয়ে পাচারকারীরা সীমান্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন  গোয়েন্দারা। 
Advertisement
এদিকে রবিবার সকালে ফের শুকদেবপুরে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে ফসল লুটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা দুর্গেশ রায় বলেন, ওরা কিছুতেই থামছে না। রবিবার সকালেও বাংলাদেশিরা আমাদের ১০ থেকে ১৫ বিঘার ফসল কেটে নিয়ে যায়। বিএসএফ জওয়ানরা তাড়া করায় ওরা পালিয়ে যায়। এনিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে চারবার ভারতে ঢুকে ফসল লুটের অভিযোগ উঠল বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে। যার জেরে বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সীমান্তবর্তী গ্রাম। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এদিন বিজিবির সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিং করে বিএসএফ। দেশের মধ্যে অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা মালদহের কালিয়াচক সীমান্ত। এই সীমান্ত দিয়েই বাংলাদেশ থেকে জালনোট এপারে আসে। গত বছর আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ওপার থেকে পরপর জালনোট ভারতে পাচার করা হয়। রাজ্য পুলিসের এসটিএফ ও মালদহ পুলিসের তৎপরতায় গত ছ’মাসে কালিয়াচক থেকে কোটি টাকার বেশি জালনোট উদ্ধার হয়েছে। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জে ভারতীয় জালনোট তৈরির কারখানা রয়েছে। যার সঙ্গে জেহাদি জঙ্গী সংগঠনের সংশ্রব আছে। 
জালনোট, গরু, মাদক সহ  পাচার রুখতে উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার পাতার কাজ শুরু করে বিএসএফ। সিপিডব্লুডিকে দিয়ে বিএসএফ কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু করতেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বিজিবি ও বাংলাদেশিদের একাংশ। সমস্ত ঘটনা খতিয়ে দেখে গোয়েন্দাদের সন্দেহ শুকদেবপুর সীমান্তে বাংলাদেশীদের বারবার হামলার পিছনে এই জালনোট পাচারকারীদের হাত আছে। 
সীমান্তে হামলার পর থেকেই নজরদারি বাড়িয়েছে বিএসএফ। দেশরক্ষায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরাও। অন্যদিকে রবিবার গ্রামবাসীদের সীমান্তের কাছাকাছি যেতে বারণ করেছে বিএসএফ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এপার থেকে দাঁড়িয়ে দেখতে হচ্ছে কীভাবে ওরা আমাদের ভূখণ্ড থেকে গম কেটে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারি প্রকল্প থেকে ঋণ নিয়ে বহু কষ্টে জমিতে সেচের জন্য পাম্প বসানো হয়েছে। সেই পাম্প চুরি করে নিয়ে গিয়েছে বাংলাদেশিরা। শুধু তাই নয়, সেচের জন্য বসানো পাইপের ভিতর বালি, পাথর ভরে দিয়েছে তারা। 
রবিবারের ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পর আদৌ কি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে? আপাতত শুকদেবপুরের বাসিন্দারা সেদিকেই তাকিয়ে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ