Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলে তৈরি বুথ থেকেই বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ, বন্দিদের লুকিয়ে ফোন করার দিন শেষ

জেলে তৈরি বুথ থেকেই বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ, বন্দিদের লুকিয়ে ফোন করার দিন শেষ
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: কম্বল মুড়ি দিয়ে বা শৌচালয়ে গিয়ে লুকিয়ে ফোন করার দিন শেষ। এখন জেলবন্দিরাও বৈধভাবেই ফোন করছেন। কারারক্ষী, আধিকারিকদের কাছ থেকেই আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ বা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন সংশোধনাগারে বন্দিদের জন্য জেলের মধ্যেই ফোন বুথ করা হচ্ছে। সরকারের উদ্যোগে খুশি বন্দিরা। আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগারে ফোন করার জন্য লাইন পড়ছে। বন্দিদের জন্যই লুপ্তপ্রায় টেলিফোন বুথ কার্যত ফিরে এল। শুধু সংশোধনাগারে ফোনের ব্যবস্থাই নয়, চালু হয়েছে টেলি মেডিসিন পরিষেবাও। প্রযুক্তির হাত ধরে চিকিৎসকরা সংশোধনাগারের বন্দিদের চিকিৎসা করছেন। বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত হাজার হাজার বন্দির মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য সরকারের এই পদক্ষেপ। 
Advertisement
আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগারের সুপারিন্টেন্ডেন্ট চান্দ্রেয়ী হাইত বলেন, সংশোধনাগারে টেলিফোন পরিষেবা চালু হয়েছে। বন্দিদের মধ্যে এনিয়ে বিপুল উৎসাহ রয়েছে। ফোন করার সুবিধা থাকলেও কোথায় ফোন করছেন তার সার্ভিলেন্স থাকছে। পাশাপাশি সংশোধনাগারে টেলিমেডিসিন পরিষেবাও চালু হয়েছে। 
তবে আর পাঁচটা টেলিফোন বুথের সঙ্গে এর তফাৎ রয়েছে। প্রথমত, টেলিফোন করার জন্য বন্দির আত্মীয়রা সংশোধনাগারের বাইরে এসে রিচার্জের টাকা দিয়ে যাবেন। সেইমতো বন্দিরা ফোন করার সুযোগ পাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, বন্দি চাইলেই যে কোনও নম্বরে ফোন করতে পারছেন না। নিজের আইনজীবী, রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের সঙ্গেই কথা বলতে পারবেন। আসানসোল সংশোধনাগারে সাড়ে তিনশোর বেশি বন্দি রয়েছে। ফোন রয়েছে মাত্র দু’টি। সম বণ্টনের জন্য জেলের ওয়ার্ড অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের বন্দিরা ফোন ব্যবহার করতে পারবে। সর্বোচ্চ কথা বলার সময় ১০ মিনিট। যাতে পরবর্তী বন্দিও কথা বলার সুযোগ পান। সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের দাবি, এই রোটেশন সুষ্ঠুভাবে চললে এক একজন বন্দি সপ্তাহে দু’বার ফোনে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। তাতেই স্বস্তি ফিরছে বন্দিদের মনে। 
জেলে ফোন কেলেঙ্কারির বড় ইতিহাস রয়েছে। সংশোধনাগারে কোনওভাবেই ফোন ব্যবহার করা যেত না। পরিবার বা অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে মরিয়া থাকত বন্দিরা। সেখান থেকেই জেলে চক্র গজিয়ে উঠত। বিভিন্ন সময়ে দেখা গিয়েছে, আদালত থেকে ফেরার পথে বন্দি ফোন লুকিয়ে সংশোধনাগারে ঢুকে পড়ছে। কোথাও আবার অভিযোগ উঠত, কারারক্ষীদের হাতে বাড়তি টাকা গুঁজে দিলেই ফোনে কথা বলার সুযোগ মেলে। ফোন কেলেঙ্কারি নিয়ে সাড়া পড়েছিল সিবিআই, ইডির হাইপ্রোফাইল মামলাতেও। আসানসোল সংশোধনাগারেই বন্দি ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগ তুলত, সংশোধনাগারে বসেই ফোনে কথা বলছেন ‘কেষ্ট’। প্রভাবশালীরা ছাড়াও সাধারণ বন্দিরাও প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলতে চান। তা না পেয়েই অনেকে বাধ্য হতেন ফোন করার ‘অপরাধ’ করতে। বহু সংশোধনাগারেই চিকিৎসক পদ ফাঁকা পড়ে আছে। সেখানে জ্বর-সর্দি হলেও বন্দিকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যবস্থা করতে হতো। সেই ঝক্কি থেকে মুক্তি দিয়েছে টেলিমেডিসিন পরিষেবা। পাশাপাশি সংশোধনাগারে সেভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় বহু জটিল রোগের চিকিৎসা হতো না। টেলিমেডিসিন চালু হওয়ায় সেই স্বাস্থ্য পরিষেবাও পাচ্ছেন বন্দিরা। যদিও জানা গিয়েছে, চিকিৎসক ঘাটতি থাকায় সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ বারবার চেষ্টা করলে তবেই চিকিৎসককে পাওয়া যাচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ