Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় প্রথম, নাটাবাড়িতে প্লাস্টিক ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ

জেলায় প্রথম, নাটাবাড়িতে প্লাস্টিক ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহার জেলায় এই প্রথম বিটুমিনের সঙ্গে প্লাস্টিক মিশিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্ষার রাস্তার ক্ষতি রুখতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তুফানগঞ্জ মহকুমার নাটাবাড়ি বিধানসভার ধলপল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের হেরিটেজ রোড থেকে সিংহপাড়া পর্যন্ত ১.২ কিমি রাস্তা নির্মাণের কাজ বুথ থেকে শুরু করা হয়েছে। এদিন জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মিনা, অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) সৌমেন দত্ত সহ অন্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। 
Advertisement
কোচবিহার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, একবার ব্যবহার করা হয়েছে এমন প্লাস্টিকই নির্দিষ্ট মাপে কেটে তা বিটুমিনের সঙ্গে মিশিয়ে এই বিশেষ পদ্ধতিতে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে রাস্তা আগের থেকে অনেক বেশি দিন টেকসই হবে। আগামী দিনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই গ্রামগঞ্জ থেকে শহরের মূল রাস্তা তৈরি করা হবে। 
অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) সৌমেন দত্ত বলেন, বিটুমিনের সঙ্গে প্লাস্টিক মিশিয়ে রাস্তা বানানো হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে রাস্তা বানানো হলে অনেক বেশি টেকসই হয়। জেলায় প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এমন রাস্তা নির্মাণের কাজ এদিন শুরু হল। আগামী দিনে আমরা জেলার অন্যান্য এলাকাতেও এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাস্তা বানাব। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলায় মোট ১২৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১২৭টি পঞ্চায়েতে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট আছে। এছাড়াও জেলার সব ক’টি মহকুমায় প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। শহর কিংবা গ্রামের বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক সহ অন্যান্য বর্জ্য নিয়ে আসা হয় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে। সেখানেই চলে বর্জ্য পৃথকীকরণ। এরপর প্লাস্টিক পাঠানো হয় প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে। 
ধলপল গ্রাম পঞ্চায়েতের এই রাস্তাটি নির্মাণের ক্ষেত্রে নাটাবাড়ি থেকে প্লাস্টিক আনা হচ্ছে। এছাড়াও তুফানগঞ্জ মহকুমা প্লাস্টিক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট থেকেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ প্লাস্টিক নিয়ে আসা হচ্ছে। এই কাজে এক কিমি রাস্তা নির্মাণের জন্য চারশো কেজি প্লাস্টিক প্রয়োজন হবে বলে নির্মাণ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। ১.২ কিমি রাস্তা নির্মাণের জন্য ৪২ লক্ষ টাকারও বেশি খরচ হবে। 
বর্ষার মরশুমে কোচবিহারে বেশ কয়েক মাস ভারী বৃষ্টিপাত হয়। বর্ষার কারণে অনেক রাস্তাই তাই ওইসময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার ভারী যানবাহন চলাচলের কারণেও বহু রাস্তা নির্মাণের কিছুদিন পরেই ভেঙে যায়। এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রযুক্তিতে তৈরি এই রাস্তা আগামী দিনে বহুদিন টেকসই হবে বলে প্রশাসন মনে করছে। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি এবং শিলিগুড়ির কয়েকটি গ্রামীণ এলাকায় এমন প্রযুক্তিতে রাস্তা বানানো হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ