Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জল জীবন মিশনের কাজে বাধা, উত্তেজনা নলহাটিতে

জল জীবন মিশনের কাজে বাধা, উত্তেজনা নলহাটিতে
  • ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: জল জীবন মিশন প্রকল্পের কাজ ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হল নলহাটি ২ ব্লকের শীতলগ্রাম পঞ্চায়েতের কল্যাণপুর গ্রামে। সোমবার পিএইচই-র বরাত পাওয়া ঠিকাদার কাজে এলে গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়তে হয়, চলে ধাক্কাধাক্কি। খবর পেয়ে পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ মঙ্গলবার বিডিও অফিসে গ্রামবাসীদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন পিএইচই-র কর্তারা। 
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পক্ষ থেকে কল্যাণপুর গ্রামে জল প্রকল্পের জন্য ৬ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকারও বেশি বরাদ্দ হয়েছে। সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে ভূগর্ভস্থ জল তুলে কল্যাণপুর ছাড়াও লাগোয়া পারকুটা, কুণ্ডপাড়া, প্রসাদপুর ও কামালপুর গ্রামে পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। কল্যাণপুরে গড়ে উঠবে ওভারহেড ওয়াটার রির্জাভার। সেই মতো দিন কয়েক আগেই কল্যাণপুরের নির্দিষ্ট জায়গায় বোরিং করা হয়। এদিন বরাত পাওয়া ঠিকাদার সংস্থা পাইপ ভরতে গেলে বাধা দেন গ্রামবাসীরা। এই নিয়ে ঠিকাদার সংস্থার লোকজনদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। গ্রামবাসীরা জানান, তাঁদের অবগত না করেই পিএইচই প্রকল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। গত শুক্রবার তাঁরা ব্লক প্রশাসনিক স্তরেও লিখিত অভিযোগে জানান, ছয় মাস আগে ওই জায়গার পাশাপাশি এলাকায় দু’বার বোরিং হয়েছিল। কিন্তু জলস্তর ভালো না থাকায় কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। এলাকার বাসিন্দা ঝলক মণ্ডল বলেন, এখানে এমনিতেই ১২০ ফুটের নীচে ছাড়া জল পাওয়া যায় না। সেখানে ১৫০ ফুট খনন করা হয়েছে। গ্রীষ্মে জলস্তর আরও নেমে যায়। তখন এই প্রকল্প মানুষের আর কোনও কাজে আসবে না। তাই আমরা সবাই চাইছি ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট বোরিং করা হোক। 
এদিন ঠিকাদার সে কথা না শোনায় জোর করে পাইপ ভরায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। যে পাইপগুলি ভরা হয়েছিল, তা তুলতে বাধ্য করেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা দাবি করেন, পাশের প্রসাদপুর গ্রামে এই প্রকল্প সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক। খবর পেয়ে পুলিস এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
যদিও পিএইচই-র জেলা এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেশবন্ধু হাজরা বলেন, যেখানে জল ভালো পাব, সেখানেই তো প্রকল্প গড়ে তুলব। পাঁচশো ফুট নীচেও জল মিলবে, কিন্তু সেটা তো পানযোগ্য হওয়া চাই। আসলে যেখানে এই প্রকল্প গড়ে উঠছে, সেখানে টিউবওয়েল রয়েছে। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা তার পাশে সাবমার্সিবল বসলে টিউবওয়েল থেকে জল মিলবে না। ওদের বোঝাতে হবে, মাটির নীচের জল রিচার্জ হয়। তাছাড়া শুধু খাওয়ার জন্য এই জল নেবে। সব কাজের জন্য তো নয়। তিনি বলেন, আজ মঙ্গলবার বিডিও অফিসে গ্রামবাসীদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। আশাকরি সমস্যা মিটে যাবে।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ