রাঁচি: হাজার চেষ্টা করেও ঝাড়খণ্ডে পদ্ম ফোটাতে ব্যর্থ গেরুয়া শিবির। বিরসা মুন্ডার জন্মভূমিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ মুখ থুবড়ে পড়ল। টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এল (ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা নেতৃত্বাধীন জোট। এই জয়ের হাত ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে নিজের জায়গা করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের স্ত্রী কল্পনা সোরেন। রাজনৈতিক মহলের মতো ইন্ডিয়া জোটের এই দাপুটে জয়ের অন্যতম কারিগর কল্পনা। স্বামীর সঙ্গে তালমিলিয়ে ভোটের প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন তিনি। অথচ রাজনীতিতে তিনি ছিলেন নিতান্ত নবীন। হেমন্তকে ইডি গ্রেপ্তার করার পর প্রথমবার রাজনীতিতে আসেন তিনি। বিধানসভা উপ নির্বাচনে জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হন সোরেন পরিবারের পুত্রবধূ। তারপর কয়েক মাসে কল্পনার উল্কার মতো উত্থান দেখেছে রাজ্য রাজনীতি। এবার দলের প্রচারের ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। নিজে ১৬ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতে গান্ডে আসনে ধরে রেখেছেন। পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীদের জেতাতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। জোটের জয়ের পর কল্পনা বলেছেন, এই জয় মা-বোনেদের জয়। সত্যের জয়। সৌভ্রাতৃত্বের জয়।
Advertisement
চলতি বছরের গোড়ায় ৩১ জানুয়ারি ইডি গ্রেপ্তার করেছিল হেমন্তকে। এই ঘটনার পর সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও এমবিএ কল্পনা। স্বামীর অনুপস্থিতিতে কার্যত দলের হাল ধরার গুরুদায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর ঘাড়েই। সেই অগ্নিপরীক্ষায় তিনি যে সফল, ভোটের ফলই তার প্রমাণ। হেমন্ত জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও দল ধাক্কা খেয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী পদ চলে যাওয়ায় দল ছেড়েছিলেন চম্পই সোরেন। ওই ঘটনাকেও প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার করেছিল বিজেপি। মোদি-ব্রিগেড দাবি করেছিল, একজন আদিবাসী নেতাকে অপমান করেছে জেএমএম। একইসঙ্গে হেমন্ত ও কল্পনাকে ‘বান্টি আউর বাবলি’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি শিবির। কিন্তু সমস্ত আক্রমণের মুখে কল্পনা ছিলেন অবিচল। হেমন্ত ও কল্পনা রাজ্যজুড়ে দু’শোরও বেশি জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন। সেই জনসভার মাধ্যমে বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির মোকাবিলায় সরকারের কর্মসূচি মানুষের কাছে সুচারুভাবে তুলে ধরেছেন। সেই অক্লান্ত পরিশ্রমের পুরস্কার পেয়েছে ইন্ডিয়া জোট। সেইসঙ্গে এক নতুন তারকার উত্থানরও সাক্ষী থাকল ঝাড়খণ্ড।



