Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

ঝাড়খণ্ডের প্রার্থী তালিকায় ব্রাত্য মহিলারা, ১৫৮ জনের মধ্যে ২৬ 

ঝাড়খণ্ডের প্রার্থী তালিকায় ব্রাত্য মহিলারা, ১৫৮ জনের মধ্যে ২৬ 
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
রাঁচি: ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলা ভোটারদের মন জয়ে চেষ্টার ত্রুটি রাখতে চাইছে না রাজনৈতিক দলগুলি। শাসক ও বিরোধী-দুই পক্ষই মহিলাদের আর্থিক সাহায্যের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র কথা প্রচার করে যাচ্ছে। কোন দল বেশি টাকা দেবে তার প্রতিযোগিতা চলছে। অথচ ভোটের লড়াইয়ে মহিলা প্রার্থীদের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় একেবারেই নগন্য। এখনও পর্যন্ত প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি ১৫৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তার মধ্যে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র ২৬। যা মোট প্রার্থী সংখ্যার মাত্র ১৬.৪ শতাংশ। অথচ বছর খানেক আগেই সংসদে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ জনপ্রতিনিধি থাকার বিল পাশ হয়েছে। এই মহিলা প্রার্থীদের অনেকেই আবার কোনও পরিচিত রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। ঝাড়খণ্ডের ৮১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৩১টি কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারদের থেকে মহিলা ভোটারদের সংখ্যা বেশি। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলির মহিলা প্রার্থী নিয়ে ‘অনীহা’য় চর্চা শুরু হয়েছে। তবে, এর মধ্যেই চারটি আসনে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামতে চলেছেন মহিলা প্রার্থীরা। এর মধ্যে অন্যতম গান্দে আসনটি। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের স্ত্রী কল্পনা সোরেনকে এখানে প্রার্থী করেছে ক্ষমতাসীন দল জেএমএম। অন্যদিকে, কল্পনার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন বিজেপির মুনিয়া দেবী। তিনি আবার গিরিডি জেলা পরিষদের সভানেত্রী। এছাড়া দুমরি, রামগড় ও ঝরিয়া আসনেও মহিলা প্রার্থীরা মুখোমুখি লড়াইয়ে নামছেন।
Advertisement
জেএমএমের নেতৃত্বে জোট সরকার ‘মুখ্যমন্ত্রী মাইয়া সম্মান যোজনা’ চালু করে। প্রথমে এই প্রকল্পে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলাদের এক হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। বিজেপিও প্রতিশ্রুতি দেয়, তাঁরা ক্ষমতায় এলে একই ধাঁচে ‘গোগো দিদি যোজনা’ চালু করবে। তাতে প্রত্যেক মহিলাকে ২১০০ টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল বিজেপি। এরপরই মহিলাদের প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে সরকার। বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি মহিলা প্রার্থী দিয়েছে বিজেপিই। ৬৬ আসনের মধ্যে তারা ১২টি আসনে মহিলা প্রার্থীদের টিকিট দিয়েছে। অন্যদিকে, জেএমএমের ৪৩ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র পাঁচ জন মহিলা। আজসু ও আরজেডি যথাক্রমে দুই ও একজন মহিলাকে প্রার্থী করেছে। 
বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই চর্চায় ছিল গান্দে বিধানসভা আসনটি। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় হেমন্তকে গ্রেপ্তারের পর এখানকার তত্কালীন বিধায়ক সরফরাজ আহমেদ পদত্যাগ করেন। তাঁর জায়গায় কল্পনাকে জিতিয়ে আনা হয়। এবারও ওই আসনে কল্পনাকেই প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মুনিয়া দেবী ২০১০ সালের আগে ছিলেন সাধারণ গৃহবধূ। ২০১০ সালে তিনি জেলা পরিষদ নির্বাচনে জিতে সভানেত্রী নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে ফের তিনি জেলা পরিষদ সভানেত্রী নির্বাচিত হন। ঝরিয়া আসনে আবার দুই জা-পূর্ণিমা ও রাগিনী সিংয়ের লড়াই। কংগ্রেস নেতা নীরজ সিংকে খুন করেছিলেন তাঁরই ভাই সঞ্জীব সিং। নীরজের স্ত্রী তথা বিদায়ী বিধায়ক পূর্ণিমাকেই ফের প্রার্থী করেছে হাত শিবির। অন্যদিকে, সঞ্জীবের স্ত্রী রাগিনীকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। দুমরি আসনে প্রাক্তন মন্ত্রী জগরনাথ মাহাতর স্ত্রীকে বেবি সিংকে প্রার্থী করেছে হেমন্তের দল। 
সম্পর্কিত সংবাদ