রাঁচি: ঝাড়খণ্ডে ভোট শুরু হতে আর মাত্র দশদিন। তার আগে রবিবার বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর ঘোষণা, ক্ষমতায় এলে ঝাড়খণ্ডেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু করা হবে। তবে এর আওতার বাইরে রাখা হবে আদিবাসীদের। তাঁর কথায়, ‘জেএমএম সরকার ইউসিসি নিয়ে মিথ্যা প্রচার করছে। তারা বলছে, এর ফলে আদিবাসীদের অধিকার এবং সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। আসল কথা হল, আদিবাসীদের ইউসিসির আওতা থেকে বাইরে রাখা হবে।’ অমিত শাহর মন্তব্য সামনে আসার পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। চ্যালেঞ্জের সুরে তিনি বলেন, তাঁর সরকার রাজ্যে কখনও ইউসিসি বা এনআরসি চালু হতে দেবেন না। তাঁর কথায়, ‘আদিবাসীদের জমি, সংস্কৃতি এবং অধিকার রক্ষার জন্য ঝাড়খণ্ডে কেবল ছোটনাগপুর টিনান্সি (সিএনটি) এবং সাঁওতাল পরগনা টেনান্সি (এসপিটি) আইন চালু থাকবে।’
Advertisement
এদিন শাহের বক্তব্যে উঠে আসে ঝাড়খণ্ডের ধর্ম, সংস্কৃতি রক্ষায় বিজেপির দায়বদ্ধতার কথা। তিনি বলেন, খনিজ সম্পদ উত্তোলন বা কলকারখানা তৈরির জন্য যাঁরা বাস্তুচ্যুত হবেন, তাঁদের পুনর্বাসনের তদারকি করতে একটি কমিশন গঠন করবে সরকার। ৫ লক্ষ কর্মসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এরমধ্যে ২ লক্ষ ৮৭ হাজারই হবে সরকারি চাকরি। জেএমএম সরকারের আমলে বেআইনিভাবে বাসিন্দাদের কারণে ‘মাটি, বেটি, রোটি’ সবচেয়ে সঙ্কটে। ক্ষমতায় এলে স্থানীয়দের স্বার্থ দেখবে বিজেপি সরকার। তাঁর কথায়, ‘এরাজ্যে সঙ্কটে হিন্দুরা। তুষ্টিকরণের রাজনীতি শিখরে পৌঁছেছে। দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজ্য এই ঝাড়খণ্ড।’ পাল্টা কংগ্রেসের তোপ, বিজেপির প্রচারের একমাত্র ইস্যু হল মেরুকরণ, সাম্প্রদায়িক বিভাজন। এটা তাদের ইস্তাহার থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।



