Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

ঝাড়খণ্ড ভোটে হামলা চালাতে পারে মাওবাদীরা, কপালে ভাঁজ কমিশনের

ঝাড়খণ্ড ভোটে হামলা চালাতে পারে মাওবাদীরা, কপালে ভাঁজ কমিশনের
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সন্দীপ স্বর্ণকার. নয়াদিল্লি: লোকসভা নির্বাচন নির্বিঘ্নেই হয়েছে। তবে আচমকাই এখন খবর এসেছে ভোটের সময় ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী হামলা হতে পারে। পশ্চিম সিংভূম এবং বোকারো—এই দুই জেলায় ভোট পর্বেই এই হামলা হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের গোপন রিপোর্ট জমা পড়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে নর্থ ব্লক। বিষয়টি জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। আর তাতেই কমিশনের কর্তাদের ঘুম ছুটেছে। সুষ্ঠু, অবাধ, নির্বিঘ্ন ভোট করানোরই তাদের লক্ষ্য। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে অতিরিক্ত ৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়া হয়েছে। রাজ্যে ইতিমধ্যেই যে ১০০ কোম্পানি সিএপিএফ রয়েছে, তাদের মধ্যে থেকে কিছু জওয়ানকে বোকারো এবং পশ্চিম সিংভূমে অতিরিক্ত নজরদারি আর চিরুনি তল্লাশির জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৩ এবং ২০ নভেম্বর ঝাড়খণ্ডে ভোট। এই ৮১ আসনে নির্বিঘ্নে ভোট সম্পন্ন করানোই কমিশনের কাছে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। 
Advertisement
কেন্দ্রের হিসেব মতো ঝাড়খণ্ডের পাঁচ জেলা মাওবাদী অধ্যুষিত। গিরিডি, গুমলা, লাতেহার, লোহারডাগা এবং পশ্চিম সিংভূম। এমনকী কেরলের ওয়েনাড়ও মাওবাদী অধ্যুষিত জেলা ব঩লেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের খাতায় চিহ্নিত। ওয়েনাড়েও লোকসভার উপ-নির্বাচন ১৩ নভেম্বর। সেখানেও আজই প্রচারের শেষ দিন। ওয়েনাড়ে প্রার্থী ভিআইপি। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তবে সেখানে তেমন উদ্বেগজনক কোনও মাওবাদী হামলার রিপোর্ট নেই। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা যা পেয়েছেন ঝাড়খণ্ডে। 
পশ্চিম সিংভূমের পাঁচ বিধানসভা কেন্দ্র চাইবাসা, মাঝগাঁও, জগন্নাথপুর, মনোহরপুর এবং চক্রধরপুর— সবই আদিবাসী এলাকা। ১৩ তারিখ প্রথম দফার ৪৩ আসনের মধ্যেই এখানে ভোট। বোকারোর মধ্যে পড়ছে বেমরো, বোকারো, চন্দনকিয়ারি এবং গোমিয়া। এখানে ভোট ২০ নভেম্বর। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে, উল্লেখিত বিধানসভার এলাকার কয়েকটি জায়গায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া (পিএলএফআই)র নাম লেখা পোস্টার পড়েছে। রয়েছে ভোট বয়কটের ডাক। কে লাগিয়ে গেল, তার খোঁজখবর শুরু হয়েছে। কমিশনের কর্মীরা ভরসা দিচ্ছেন, নিশ্চিন্তে ভোট দিন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিন। কমিশনের কর্মীদের সঙ্গে মিশে রয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ২০০৪ সালের নির্বাচনের সময় লাতেহার এলাকায় হয়েছিল আইডি বিস্ফোরণ। তারপর থেকে ওই এলাকা ছিল অনেকটাই শান্ত। তাহলে ফের কীকরে মাওবাদীরা সক্রিয় হচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্র। 
বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে জমা পড়া গোপন রিপোর্টে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানিয়েছে, গোইলকেরা, লুজু ঝুমরা জঙ্গল এলাকায় মাওবাদী নেতাদের আনাগোনা দেখা গিয়েছে। শহুরে কিছু মাওবাদী সমব্যথীর সাহা঩য্যেই তারা এলাকাবাসীদের ফের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের অফিসারের নেতৃত্বে নর্থ ব্লকের যে বিশেষ টিম রয়েছে, তারা সজাগ হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি বাড়ানো হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ