Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে নতুন রূপে শুরু গুপ্তমণি মন্দির তৈরির কাজ

ঝাড়গ্রামে নতুন রূপে শুরু গুপ্তমণি মন্দির তৈরির কাজ
  • ২১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: অরণ্যদেবী গুপ্তমণি। ভক্তদের বিশ্বাস, জঙ্গলের বৃক্ষরাই তাঁর প্রহরী। এই দেবী বনদুর্গা রূপেও পূজিতা হন। ঝাড়গ্রামের শতাব্দীপ্রাচীন গুপ্তমণি মন্দিরে পুজো দিতে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। দিন দিন এখানে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশে এখানে নতুন মন্দির ও অন্য পরিকাঠামো তৈরি শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন মন্দির ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। গুপ্তমণি মন্দির ঝাড়গ্রামের অন্যতম ধর্মীয় পর্যটনস্থল। মূলত শবর সম্প্রদায়ের মানুষ গুপ্তমণি দেবীর উপাসনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২০সালে এই মন্দির নতুন করে তৈরির জন্য ১ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেছিলেন। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের তরফে ২০২৩ সালে সেই টাকা বরাদ্দ হয়। মন্দিরের পুরোহিতরা কাজের অনুমোদন দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ২০২৪ সালে মন্দিরের কাজের শিলান্যাস করেন। বরাদ্দ টাকায় নতুন মন্দির তৈরি, প্রবেশপথ ও মন্দির চত্বরের রাস্তা সংস্কার হবে। ইতিমধ্যে বিশ্রামকক্ষের কাজ হয়ে গিয়েছে। মন্দির লাগোয়া নিকাশিনালা সংস্কার হচ্ছে। শৌচাগারও সংস্কার হবে।
Advertisement
জনশ্রুতি অনুযায়ী, জঙ্গলের কাছেই ছিল রাজা নরসিংহ মল্লদেবের প্রাসাদ। অরণ্যের প্রাচীর বহিঃশ্রত্রুদের হাত থেকে তাঁর রাজ্যকে রক্ষা করত। রাজার প্রিয় হাতি জঙ্গলে হারিয়ে গেলে তিনি দেবী গুপ্তমণির স্বপ্নাদেশ পান। তাতে দেবী জানান, জঙ্গলে তাঁর পূজারি শবরাপতি নন্দ ভক্তার সঙ্গে দেখা করলে রাজার হাতির সন্ধান মিলবে। প্রিয় হাতি ফিরে পেয়ে রাজা জঙ্গলে গুপ্তমণি মন্দির তৈরি করে দেন। বংশপরম্পরায় শবররা সেই মন্দিরে পুজো করে আসছেন।
এই মন্দিরের পাশেই আরও একটি মন্দির রয়েছে। কলিঙ্গ বা ওড়িশি শৈলীতে মন্দিরটি নির্মিত। কথিত আছে, বজ্রপাতে মন্দিরটি দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। মন্দিরের শিখরে সুদর্শনচক্রের ভাস্কর্য রয়েছে। ১৯৩৭সালে এই দ্বিতীয় মন্দিরটি সংস্কার হয়েছিল। এখন এই দু’টি মন্দির দেখতে অনেক পর্যটক আসেন। গুপ্তমণি মন্দির নতুন করে গড়া নিয়ে সাময়িক জটিলতা দেখা দিয়েছিল। প্রশাসন ও দেহরীদের মধ্যে বৈঠকে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে।
নন্দ ভক্তার উত্তরসূরি তথা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত লক্ষ্মণ ভক্তা বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় আমরা সন্তুষ্ট। মন্দির তৈরি ও অন্য পরিকাঠামো গথে তোলার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারাণ্ডি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে মন্দির তৈরি হচ্ছে। এই মন্দির জেলার অন্যতম পর্যটনস্থল হয়ে উঠবে। জেলা পরিষদের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সনুপ মণ্ডল বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী জেলায় প্রকৃতি পর্যটনের সঙ্গে ধর্মীয় পর্যটনস্থলেও আলাদা গুরুত্ব দিতে বলেছেন। জেলায় পর্যটন প্রসারে সরকার বড় ভূমিকা নিচ্ছে। এই উদ্যোগে স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের দরজা খুলে গিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ