Bartaman Logo
১৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে বড়পাট আদিবাসী তামাসা পাতা মেলার আকর্ষণ মোরগ লড়াই  

ঝাড়গ্রামে বড়পাট আদিবাসী তামাসা পাতা মেলার আকর্ষণ মোরগ লড়াই
 
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: প্রকৃতির মাঝে জীবন-যাপন। উৎসব পরবে বেজে ওঠে ধামসা মাদল। আদিবাসী সমাজ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে খুঁজে নেয় বেঁচে থাকার রসদ। বড়পাট আদিবাসী তামাসা পাতা মেলায় তাই ভিড় জমাচ্ছে আট থেকে আশি। উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে নয়াগ্ৰাম ব্লকের পাতিনা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বড়পাট গ্ৰাম।
Advertisement
শাল পিয়ালের বনে পাতায় পাতায় হলুদ, বাদামি রঙের ছোপ লেগেছে। জঙ্গলে বন্য প্রাণীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চঞ্চলতা। বসন্ত আসতে আর বেশি দেরি নেই। জঙ্গল ঘেরা ছোট গ্ৰাম এখন উৎসবমুখর। গ্ৰামের ছেলেমেয়ের দল নতুন সাজে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছে। মেলায় হবে দলবেঁধে নাচ। আদিবাসী তরুণ থেকে বৃদ্ধ, মেলায় ভিড় করছেন মোরগ লড়াই দেখতে। বাবা-মায়ের কোলে পীঠে চড়ে হাজির হচ্ছে ছোট ছেলেমেয়েরাও। আদিবাসী সমাজের প্রাণস্পন্দন লুকিয়ে রয়েছে তাদের পরব ও মেলায়। ‘বড়পাট আদিবাসী তামাসা পাতা’ মেলা শুরু হয়েছিল ৪০ বছর আগে। প্রতিবারের মতো এবারও ধুমধাম করে মেলা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সূচনা হয়। মঙ্গল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মেলা চলবে। বড়পাট আরসিএমএম ক্লাবের উদ্যোগে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনদিনের মেলায় আদিবাসী সমাজের শিল্পীরা তাঁদের গান, নৃত্য পরিবেশন করবেন। এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ আদিবাসী সমাজের তামাসা পাতা নৃত্য। মেলার শেষদিন বৃহস্পতিবার মোরগ লড়াই দেখতে দূর-দূরান্তের মানুষ ভিড় জমাবে। মেলা কমিটির অন্যতম কর্ণধার দুলাল মুর্মু বলেন, আদিবাসী সমাজ সযত্নে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে আগলে রেখেছে। প্রতিটি ঋতুতেই এখানে কোনও না কোনও পরব ও মেলা হয়। গ্ৰামের মানুষের উদ্যোগে এই মেলা হয়। প্রতিবারের মতো এবারও মেলায় সকল স্তরের মানুষ শামিল হচ্ছে। 
মেলার অন্যতম কর্মকর্তা বিজন মুর্মু বলেন, এই ব্লকের বেশিরভাগ এলাকায় জঙ্গল। জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামের মানুষ সারাবছর তাঁদের উৎসব-পরব নিয়ে বেঁচে থাকেন। শহুরে সংস্কৃতির প্রভাব পড়ছে। আদিবাসী সমাজের মানুষ অবশ্য তাদের সংস্কৃতিকে ভালোবাসে। রক্ষা করে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের একাধিক শিল্পীগোষ্ঠী এবার মেলায় অংশগ্ৰহণ করেছে। মেলা কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা ভিড় সামলানোর দায়িত্বে রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা বিজন মুর্মু বলেন, প্রকৃতির মাঝেই আমরা বড় হয়েছি। আদিবাসী সমাজের মানুষের কাছে পরব বা মেলা হল একসঙ্গে সকলে জড়ো হওয়ার দিন। ধামসা-মাদল নিয়ে মেলায় আনন্দ শুরু হয়ে গিয়েছে। মেলা-পরবের ভিতর থেকেই আমরা  বেঁচে থাকার রসদ পাই।-নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ