নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বিধানসভা ভোটের আগে ঝালমুড়ি খেয়ে চমক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার সেই ঝালমুড়িই হাজির বাজির বাজারে। এছাড়াও রাজ্যে পালাবদলের রঙের ছোঁয়াও লেগেছে দীপাবলির আতশবাজিতে। বেলুড়ের ঐতিহ্যবাহী বুড়িমা এবার ঝালমুড়ি বাজি তৈরি করেছে। পাশাপাশি থাকছে গেরুয়া রঙের ফুলঝুরি এবং আকাশে গেরুয়া আলোর ঝলকানি ছড়ানো বিশেষ আতশবাজি। এই সম্ভার নিয়ে ক্রেতাদের উৎসাহ রয়েছে বলে দাবি।
বুড়িমা বাজি সংস্থার কর্মকর্তাদের কথায়,‘ঝালমুড়ি বাজি’ ফাটলে ছোটো ছোটো মুড়ির দানার মতো আলোর ঝলকানি বের হবে। সঙ্গে মুড়ির মতো মচমচ শব্দ হবে। নতুন এই বাজি ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। অন্যদিকে এবার বাজির সম্ভারে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে গেরুয়া রং। বুড়িমা পরিবারের সদস্য সুমিত দাস জানান, এবার থাকছে গেরুয়া ফুলঝুরি এবং গেরুয়া শেল। আকাশে আতশবাজির শেল ফাটলে ছড়িয়ে পড়বে গেরুয়া আলো। রাজ্যজুড়ে গেরুয়া রঙের চাহিদা বেড়েছে। সেই ভাবনা থেকেই বাজিতেও এই রঙের সংযোজন।
একসময় শব্দবাজির জগতে বিশেষ পরিচিতি ছিল বেলুড়ের বুড়িমার। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা আসতেন। সময়ের সঙ্গে পরিবেশ ও সরকারি বিধিনিষেধ মেনে গ্রিন ক্র্যাকার্স তৈরিতেই জোর দিয়েছে সংস্থা। এবার শিশুদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন রঙের আলো ছড়ানো ‘ককটেল তুবড়ি’।
গত বছরের মতো ড্রোন ও হেলিকপ্টার বাজির চাহিদাও তুঙ্গে। রয়েছে কম ডেসিবেলের ২৫ শটের বাজি এবং আকাশে ২৫ রকমের আলোর ঝলকানি দেখানো ‘ড্রাগন ২৫’। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এবার উৎপাদন অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। তা সত্ত্বেও বুড়িমার কারখানায় সাধারণ ক্রেতা ও পাইকারি বিক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ছে। উত্তরপাড়া থেকে আসা দেবব্রত চৌধুরী জানান, গেরুয়া বাজির ভেলকি দেখার অপেক্ষায় আছেন তিনি। শ্রীরামপুরের নন্দিনী চক্রবর্তী ছেলেকে নিয়ে এসেছিলেন ঝালমুড়ি বাজি কিনতে। ছেলের আবদারেই
তাঁর আসা।



