সংবাদদাতা, বজবজ: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মধ্যে ফলতার হাসিমনগর যুব গোষ্ঠীর জগদ্ধাত্রী পুজো সবথেকে পুরনো। এই পুজো এবার ৫৪ বছরে পা দিয়েছে। রবিবার, ১০ নভেম্বর থেকে পুজো শুরু। পাঁচদিন ধরে চলবে। ‘বুড়ি মা’ পরিচিত গোটা জেলাজুড়ে। মানুষের বিশ্বাস, ঠাকুর খুব জাগ্রত। বিপদেআপদে তাঁকে স্মরণ করলে তিনি রক্ষা করেন। কেউ কোনও কিছু মানত করলে তা পূরণ করেন। প্রতিবছর বহু মানতকারী শাড়ি, সোনার অলঙ্কার দিয়ে পুজো দেন। প্রচুর শাড়ি উপহার পান দেবী। মূর্তির মুখ ছাড়া বাকি শরীর শাড়িতে ঢেকে যায়। যুব গোষ্ঠীর কর্মকর্তা জয়ন্ত কুঁতি ও মনোজ মণ্ডল বলেন, ‘স্থায়ী পাকা মন্দির রয়েছে। তা ফুল দিয়ে সাজানো হয়। এছাড়া বুড়ি মার হাতে, গলায়, কপালে সোনার গয়না পরানো হয়। পুজোর ক’দিন জেলা ও বাইরে থেকে প্রচুর মানুষ আসেন।’ কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের মতো হাসিমনগরও এখন জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য পরিচিতি লাভ করেছে। কারণ, বুড়ি মাকে কেন্দ্র করে শুধু হাসিমনগরে ৩০টিরও বেশি পুজো হয়। এর প্রভাবে লাগোয়া অঞ্চল যথা বাণেশ্বরপুর, শিরাকোল, বঙ্গনগর, দোস্তিপুর, ফতেপুরে সব মিলিয়ে আরও ৩০টির মতো জগদ্ধাত্রী পুজো হয়। এখন পুজোর আয়োজন নিয়ে ব্যস্ততা তুঙ্গে। হাসিমনগর ক্ষুদিরাম স্মৃতি সঙ্ঘ এবার ২১ বছরে পা দিল। সভাপতি গোপাল সাউ বলেন, ‘এবার থিম হল ‘অনুভূতি’। ছোট ছোট জিনিস দিয়ে তৈরি মণ্ডপ। ভিতরের অংশে প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। যাতে দর্শকরা এখানে এসে নতুন অনুভূতির আস্বাদ পান। আগামী দিনে তারাও সামাজিকভাবে নতুন কিছু করে দেখাতে পারেন। মণ্ডপ তৈরি করেন গ্রামের লোকজন।’ হাসিমনগর স্পোর্টিং ইউনিয়ন এবার ২৫ বছরে পা দিল। সহ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, ‘থিম হল পঁচিশে পঁচিশ। ২৫ ফুটের প্রতিমা হচ্ছে।’ এভারগ্রিন ক্লাবের পুজো ২৮ বছরে পা দিল। তাদের ভাবনা ‘রূপায়ন’। সম্পাদক সুপ্রভাত মাইতি বলেন, ‘ফোম আর থার্মোকল দিয়ে ড্রাগনের আদলে মণ্ডপ হচ্ছে।’ ২৪ বছরে পা দিয়েছে জয়ধ্বনি ক্লাবের পুজো। এবার থিম, ‘থাকব নাকো বদ্ধ ঘরে’-বলেন সদস্য টুকাই কর। সহযাত্রী ক্লাবের সদস্য সৌমিত্র মণ্ডল বলেন, ‘পুজোর ২৫ বছর। এবারের থিম, ‘রাজস্থান’।



