আন্দুলে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ১ কোটি টাকার গয়না লুট, আতঙ্কে দোকানিরা
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সাঁকরাইলে পরপর গয়না ব্যবসায়ীদের নিশানা করছে দুষ্কৃতীরা! মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ধূলাগড়ের পর এবার দুঃসাহসিক লুটের ঘটনা আন্দুলে। বুধবার রাতে ঝোড়হাট মাড়োয়ারি বাগানে একটি গয়নার দোকানে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে মালিককে মারধর করে প্রায় এক কোটি টাকার সোনা-রুপোর গয়না লুট করে পালাল তিন দুষ্কৃতী। পরপর এমন ঘটনায় পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এলাকায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক।

Advertisement

রাত তখন ৯টা। রাস্তা একেবারে নির্জন না হলেও লোকজনের চলাচল তুলনামূলক কম। স্থানীয় সূত্রে দাবি, রাস্তার ওপারে একটি মোটরবাইক নিয়ে অপেক্ষা করছিল দুষ্কৃতীরা। দোকান বন্ধের মুখে ভিতরে ঢোকে তিনজন। দু’জনের মুখে মাস্ক, একজনের মাথায় ফুল হেলমেট। দোকানে একাই ছিলেন মালিক অনিমেষ সামন্ত। আচমকা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। শুরু হয় বেধড়ক মারধর। মাথায় ঠেকানো হয় আগ্নেয়াস্ত্র। এরপর দোকানের সমস্ত সোনা ও রুপোর গয়না একটি ব্যাগে ভরে ওই বাইকে করে পালায় দুষ্কৃতীরা। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে এই অপারেশন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, দুষ্কৃতীরা আন্দুল স্টেশনের দিকে পালিয়েছে।
জখম দোকান মালিককে স্থানীয় ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাইপো সৌমদীপ সামন্তের দাবি, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় এক কোটি টাকার গয়না লুট হয়েছে। এই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেই মনে করছে পরিবার। দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েছে লুটের ঘটনা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে সাঁকরাইল থানার পুলিশ। ফুটেজ খতিয়ে দেখে তারা দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর রাতে সাঁকরাইলের ধূলাগড় শিবতলা এলাকায় তিন দুষ্কৃতী একই কায়দায় বাইকে করে এসে এক গয়না ব্যবসায়ীকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁর ব্যাগ লুট করে পালায়। সেই ঘটনার এখনও কিনারা হয়নি। এবার সরাসরি দোকানে ঢুকে ডাকাতি। দু’টি ঘটনাতেই দুষ্কৃতীরা অধরা। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশি নজরদারির অভাবেই এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। একই থানা এলাকায় কয়েক দিনের ব্যবধানে পরপর এমন ঘটনা ঘটলেও দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্কে থাকছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে গয়নার দোকানগুলিতে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। সন্ধ্যার পর দোকান খোলা রাখতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকে। হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক অফিসার জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। 
  ঘটনার মুহূর্তের ছবি।