নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘জবরদখল বুঝি না। প্রয়োজনে অন্য জেলা থেকে পুলিস এনে রাস্তার কাজ শুরু করুন।’ ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের অচলাবস্থা কাটাতে এমনই কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
Advertisement
১৬ বছর আগে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ককে চার লেনে রূপান্তর করতে পদক্ষেপ নিয়েছিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। কলকাতা থেকে সড়কপথে শিলিগুড়ির দূরত্ব কমানোর সেই উদ্যোগ থমকে গিয়েছে জমি জটে। অন্যত্র রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ সম্পূর্ণ হলেও উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা ব্লকে ২১টি মৌজায় জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে জমিদাতাদের বিক্ষোভ-বিরোধের জেরে বারবার থমকে গিয়েছে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ। বারাসত থেকে আমডাঙার সন্তোষপুর পর্যন্ত রাস্তার সম্প্রসারণ হয়েছে। কিন্তু আমডাঙার সন্তোষপুর থেকে রাজবেড়িয়া মোড় পর্যন্ত ২১টি মৌজার প্রায় ১৮ কিমি এখনও দখল মুক্ত করা যায়নি। সঠিক ক্ষতিপূরণের দাবিতে ন্যায্য অধিকার রক্ষা কমিটির ব্যানারে আন্দোলন চলছে।
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে আদালত নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার অনিন্দ্য লাহিড়ী রিপোর্ট পেশ করে জানান, ২০২৩ সালে বারাসত আদালত জমিদাতাদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারির পর ১০ হাজার ৪০৩ জন জমিদাতাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪৮৮ কোটি টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার পরও গত বছর ৯ ডিসেম্বর ঠিকাদার কাজ শুরু করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হন। এমনকী সরকারি জমিতেও জবরদখলকারীরা কাজ শুরু করতে দেননি। সে সময় পুলিসি সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি। আমডাঙা থানার আইসি চার থেকে পাঁচজন পুলিস আধিকারিককে পাঠিয়ে দেন মাত্র। এক্ষেত্রে আধাসেনা মোতায়েন না করলে এই কাজ সম্ভব নয়। এই অভিযোগ শুনেই প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম বলেন, ‘এক্ষেত্রে রাজ্যের উচিত যাবতীয় সহযোগিতা করা।’
যদিও রাজ্যের তরফে আইনজীবী শীর্ষান্য বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা জানান, রাজ্যের তরফে সবরকম সহযোগিতা করা হবে। ইতিমধ্যেই ২১টির মধ্যে ১৭টি মৌজার জামিদাতারা ক্ষতিপূরণ পেয়ে গিয়েছেন। ৯০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিপূরণ পেয়ে গিয়েছেন। বাকি জমিদাতাদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজ চলছে। এরপরই প্রধান বিচারপতি নির্দেশে জানান, জবরদখল চলবে না। জেলা পুলিস-প্রশাসনকে শক্ত হাতে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। ঠিকাদার যাতে কোনওভাবে বাধাপ্রাপ্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ১ মার্চ থেকে ওই অংশের সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে হবে। এবং সেজন্য উত্তর ২৪ পরগনার পুলিস সুপার ও অতিরিক্ত পুলিস সুপারকে পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েনের ব্যবস্থা করতে বলেন তিনি। যদি জেলা পুলিসে পর্যাপ্ত বাহিনী না থাকে, সেক্ষেত্রে অন্য জেলা বা রাজ্যের সশস্ত্র রিজার্ভ ফোর্স থেকে বাহিনী নিয়োগ করে সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে হবে। ২৭ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন জেলা প্রশাসনকে একটি অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টও জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানম ও বিভাস পট্টনায়েকের ডিভিশন বেঞ্চ।
হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর আমডাঙা জমি রক্ষা কমিটির সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ আলি খাঁ বলেন, ‘আদালত আগেই বলেছে ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে। কিন্তু তা হয়নি। খাতায়-কলমে অনেক কিছুই দেখানো যায়। কিন্তু বাস্তবে তার ফারাক রয়েছে। মানুষ নিজেদের নায্য অধিকারের দাবিতে অনড়।’
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে আদালত নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার অনিন্দ্য লাহিড়ী রিপোর্ট পেশ করে জানান, ২০২৩ সালে বারাসত আদালত জমিদাতাদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারির পর ১০ হাজার ৪০৩ জন জমিদাতাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪৮৮ কোটি টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার পরও গত বছর ৯ ডিসেম্বর ঠিকাদার কাজ শুরু করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হন। এমনকী সরকারি জমিতেও জবরদখলকারীরা কাজ শুরু করতে দেননি। সে সময় পুলিসি সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি। আমডাঙা থানার আইসি চার থেকে পাঁচজন পুলিস আধিকারিককে পাঠিয়ে দেন মাত্র। এক্ষেত্রে আধাসেনা মোতায়েন না করলে এই কাজ সম্ভব নয়। এই অভিযোগ শুনেই প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম বলেন, ‘এক্ষেত্রে রাজ্যের উচিত যাবতীয় সহযোগিতা করা।’
যদিও রাজ্যের তরফে আইনজীবী শীর্ষান্য বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা জানান, রাজ্যের তরফে সবরকম সহযোগিতা করা হবে। ইতিমধ্যেই ২১টির মধ্যে ১৭টি মৌজার জামিদাতারা ক্ষতিপূরণ পেয়ে গিয়েছেন। ৯০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিপূরণ পেয়ে গিয়েছেন। বাকি জমিদাতাদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজ চলছে। এরপরই প্রধান বিচারপতি নির্দেশে জানান, জবরদখল চলবে না। জেলা পুলিস-প্রশাসনকে শক্ত হাতে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। ঠিকাদার যাতে কোনওভাবে বাধাপ্রাপ্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ১ মার্চ থেকে ওই অংশের সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে হবে। এবং সেজন্য উত্তর ২৪ পরগনার পুলিস সুপার ও অতিরিক্ত পুলিস সুপারকে পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েনের ব্যবস্থা করতে বলেন তিনি। যদি জেলা পুলিসে পর্যাপ্ত বাহিনী না থাকে, সেক্ষেত্রে অন্য জেলা বা রাজ্যের সশস্ত্র রিজার্ভ ফোর্স থেকে বাহিনী নিয়োগ করে সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে হবে। ২৭ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন জেলা প্রশাসনকে একটি অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টও জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানম ও বিভাস পট্টনায়েকের ডিভিশন বেঞ্চ।
হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর আমডাঙা জমি রক্ষা কমিটির সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ আলি খাঁ বলেন, ‘আদালত আগেই বলেছে ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী জমি মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে। কিন্তু তা হয়নি। খাতায়-কলমে অনেক কিছুই দেখানো যায়। কিন্তু বাস্তবে তার ফারাক রয়েছে। মানুষ নিজেদের নায্য অধিকারের দাবিতে অনড়।’



