নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট দেখিয়ে জলপাইগুড়িতে পিএফের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই প্রতিবাদে সরব বিভিন্ন মহল। জলপাইগুড়িতে পিএফের আঞ্চলিক কার্যালয়ের এ ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছে তারা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট দেখিয়ে জলপাইগুড়িতে পিএফের টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই প্রতিবাদে সরব বিভিন্ন মহল। জলপাইগুড়িতে পিএফের আঞ্চলিক কার্যালয়ের এ ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছে তারা।
অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ এই অফিসে একটি অসাধু চক্রের রমরমা রয়েছে। যারা ভুয়ো নথিপত্র বানিয়ে জীবিতকে ‘মৃত’ দেখিয়ে পিএফের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মূলত চা বাগানের শ্রমিকরাই এই চক্রের অন্যতম টার্গেট। এর সঙ্গে পিএফ অফিসের একাংশের কর্মীর পাশাপাশি চা বাগানেরও কেউ কেউ জড়িত বলে অভিযোগ।
পিএফের জলপাইগুড়ি আঞ্চলিক অফিসে দালালরাজ চলছে বলে এর আগে একাধিকবার প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন বিজেপির আলিপুরদুয়ারের এমপি মনোজ টিগ্গা। বলেছেন, জীবিত শ্রমিককে মৃত দেখিয়ে পিএফের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরব সিটুর জেলা নেতৃত্বও। তাদের বক্তব্য, কীভাবে ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি হয়েছে, সেই সার্টিফিকেটে কে সই করেছেন, কোন জনপ্রতিনিধির সই ছিল ফর্মে, সবটাই তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
অভিযোগ, ২০০৬-’১৮ সালের মধ্যে জীবিত চা শ্রমিককে ‘মৃত’ দেখিয়ে পিএফের জলপাইগুড়ি আঞ্চলিক অফিস থেকে টাকা তোলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এমনকী একই ব্যক্তিকে একাধিকবার মৃত দেখিয়ে তোলা হয়েছে পিএফের বেনিফিট।
ইনিয়ে বিনিয়ে হলেও এমন ঘটনা যে অতীতে ঘটেছে কার্যত তা স্বীকার করে নিয়েছেন জলপাইগুড়ির আঞ্চলিক পিএফ কমিশনার পবনকুমার বনসাল। তাঁর অবশ্য দাবি, একাধিক নয়, একটি ক্ষেত্রে ওভার পেমেন্ট হয়েছিল বলে শুনেছি। কিন্তু সেই টাকা আদায় করে নেওয়া হয়েছে। যদিও ঘটনাটি আমার সময়ের আগের। তবে এটুকু বলতে পারি, ২০২৪ সালের পর থেকে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভুয়ো নথি দিয়ে অতীতে পিএফের টাকা তোলার যে অভিযোগ ওঠে, তার বিরুদ্ধে দপ্তর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। এনিয়ে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে।
সিটুর জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক কৃষ্ণ সেনের অভিযোগ, নাগরাকাটার বন্ধ চা বাগানের বেশ কিছু জীবিত শ্রমিককে কাগজে-কলমে ‘মৃত’ দেখিয়ে, ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট এবং ফর্ম-২০ ব্যবহার করে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বিমার অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ডাক্তার, পঞ্চায়েত, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা বাগান কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ মদত ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমরা চাই, গোটা বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হোক। বিষয়টি নিয়ে সরব তৃণমূলের শ্রমিক নেতা তপন দে।