ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়ে প্রতারণার টাকা নেওয়ার চক্রের ডেরা হয়ে উঠেছে জলপাইগুড়ি
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

তারক চক্রবর্তী, জলপাইগুড়ি: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়ে প্রতারণার অর্থ নেওয়ার চক্রের ডেরা হয়ে  উঠেছে জলপাইগুড়ি। শহর এবং শহর সংলগ্ন গ্রামীণ এলাকায় লগ্নির নামে প্রতারক চক্রের মাথারা যুবক-যুবতীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিচ্ছে। সেই অ্যাকাউন্টে ঢুকছে লক্ষ লক্ষ টাকা। সেই টাকা মুহূর্তের মধ্যে গায়েব করে নিচ্ছে প্রতারকরা। ভাড়া দেওয়ার সুবাদে মাত্র কয়েক হাজার টাকা পাচ্ছে অ্যাকাউন্ট মালিকরা। গত সাত দিনে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার অভিযানে অন্ততপক্ষে ১১ জন এমন অ্যাকাউন্ট মালিকের হদিশ মিলেছে। 

Advertisement

বুধবার রাতে জলপাইগুড়ির কিং সাহেবের ঘাট এলাকা থেকে এমন এক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম বলরাম মণ্ডল। তাকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে কোনো এক ব্যক্তি তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের এটিএম কার্ড, চেকবই নিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে তাকে মাত্র ৩০০০ টাকা দিয়েছিল। সেই অ্যাকাউন্টে পরবর্তীতে ৮ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা জমা পড়েছিল। 
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাজ্যের এক ব্যক্তিকে অর্থ লগ্নি করানোর নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে যোগ করা হয়েছিল। অল্প অল্প করে ৩০ লক্ষ টাকা ওই সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা অ্যাপের মাধ্যমে ওই ব্যক্তি জমা করেছিলেন। পরবর্তী কালে টাকা তুলতে গেলে তা আর ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যক্তি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ওই টাকার একটা বড় অংশ বলরামের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। রাজ্য সাইবার ক্রাইম বিভাগের তরফে এরপরে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশ বলরামকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, শুধুমাত্র কোতোয়ালি থানার পুলিশ এলাকাতেই সাত দিনে আরও ১০ জনকে অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধুমাত্র এ রাজ্য নয়, দেশের একাধিক রাজ্যের প্রতারিতদের লক্ষ লক্ষ টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে এসেছিল। পুলিশের দাবি, খুব কম করে এখনও পর্যন্ত প্রতারণার ৬০ লক্ষ টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে এসেছিল। তবে এই টাকার খুবই সামান্য অংশ অ্যাকাউন্ট মালিকদের পকেটে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এই সমস্ত অ্যাকাউন্ট মালিকদের যারা ওই প্রতারণা চক্রের মাথাদের সঙ্গে পরিচয় করাচ্ছে তাদের ধরতে জোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার এক আধিকারিক বলেন, আমরা রাজ্য সাইবার ক্রাইম বিভাগের নির্দেশে এই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মালিকদের গ্রেপ্তার করছি। আমাদের অভিযান লাগাতার চলবে।