Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্যা ও খড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী জলশক্তি মন্ত্রক, কেন্দ্রের টিম জেলায় জেলায়

রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা ও খড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নিল জলশক্তি মন্ত্রক। নদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এই কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র।

বন্যা ও খড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী জলশক্তি মন্ত্রক, কেন্দ্রের টিম জেলায় জেলায়
  • ২০ মে, ২০২৬ ১৫:০৫
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বন্যা ও খড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নিল জলশক্তি মন্ত্রক। নদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এই কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। রাজ্যে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও সক্রিয় করতেই এই উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ দল উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সেচ প্রকল্প ও নদী পরিদর্শনে আসায় এনিয়ে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। 

Advertisement

এই পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করেছে জলশক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি ও সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের প্রতিনিধি দল। তারা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদী ও সেচ প্রকল্প পরিদর্শন শুরু করেছে। মঙ্গলবার প্রতিনিধি দলটি শিলিগুড়ির কাছে ফুলবাড়িতে মহানন্দা ব্যারেজ প্রকল্প পরিদর্শন করে। গজলডোবা, মহানন্দা ব্যারেজ, ইসলামপুরের ব্যারেজ থেকে শুরু করে ফরাক্কা পর্যন্ত বিভিন্ন সেচ প্রকল্প ও নদী খতিয়ে দেখছে। 
দেশের বিভিন্ন নদীর জলসম্পদ সমীক্ষা ও পরিকল্পনা করা, কোথায় অতিরিক্ত জল আছে আর কোথায় জলের ঘাটতি আছে তা নির্ধারণ করা, নদী সংযোগ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সেচ, পানীয় জল ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জল ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করা, বন্যা ও খড়ার সমস্যা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জল প্রকল্প তৈরি করা এবং বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে জল বণ্টন সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছে ন্যাশনাল ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি। 
এদিন ফুলবাড়িতে মহানন্দা ব্যারেজ পরিদর্শনের সময় সংস্থার প্রতিনিধি চিফ ইঞ্জিনিয়ার টি দেবেন্দ্র রাও বলেন, বর্ষার সময় অতিরিক্ত জলোচ্ছ্বাসে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। অন্যদিকে, খড়ার কারণে বহু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যা ও খড়ায় চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই সমস্যার সমাধানের জন্য বর্ষার অতিরিক্ত জলকে নদী সংযোগের মাধ্যমে খড়াপ্রবণ এলাকায় পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। উত্তরবঙ্গ থেকে ফরাক্কা পর্যন্ত নদী, জলাধার ও সেচ প্রকল্পগুলির পরিস্থিতি, জলধারণ ক্ষমতা, বর্ষাকালে জলের চাপ এবং বন্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। তার জন্যই আমরা সবকিছু খতিয়ে দেখছি। 
কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের এই সফর ঘিরে বিভিন্ন মহলে জল্পনাও তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে রাজ্যের বড় সেচ প্রকল্প ও ব্যারেজগুলির ওপর কেন্দ্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে। সেচদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল প্রতিটি ব্যারেজের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। সেই থেকেই বড় জলসম্পদ প্রকল্পগুলিকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ