


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জুলাই মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব পেয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এই মাসে পরিষদের বিভিন্ন বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন। জুলাইয়ে একঝাঁক সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত এজেন্ডা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে যে দেশ এই গুরুদায়িত্ব পেয়েছে, সেই দেশেই অবাধে, প্রকাশ্যে সন্ত্রাসের প্রচার চলছে। আর তা চলছে পাকিস্তানের আর্মির মদতেই। লস্কর-ই-তোইবার এক সমাবেশে কমান্ডার ফয়জল নাদিম পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সমর্থনে আয়োজিত এক বিজয় সমাবেশে বলেছে, শ্রীনগরের স্বাধীনতা আসন্ন। অনন্তনাগ থেকে জম্মু, সর্বত্র আমরা জিহাদি ঢুকিয়ে দিয়েছি। কাশ্মীরজুড়ে যেখানে যেখানে আমাদের জিহাদিদের রক্ত ঝরেছে, সেই প্রতিটি ইঞ্চি দখল করার কাজ শুরু হয়েছে। নাদিম হুমকি দিয়েছে, ভারত সম্প্রতি অপারেশন সিন্দুরের নামে আক্রমণ করে যুদ্ধকে আরও বেশি প্রবল করে তুলেছে। সুতরাং যতক্ষণ না এবার শ্রীনগরকে স্বাধীন করে কাশ্মীর দখল করা হচ্ছে, ততক্ষণ জিহাদ চলবে। তার হুঁশিয়ারি, ভারত কত জিহাদিকে মারবে? অসংখ্য জিহাদিকে আমরা ছড়িয়ে দিয়েছি। লস্কর একা নয়, একইসঙ্গে স্বয়ং জয়েশ- ই-মহম্মদের সুপ্রিমো মাসুদ আজহারের একটি অডিও বার্তাও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে জয়েশ সুপ্রিমোও ভারতকে টার্গেট করে বলছে, যতই অন্যদের মিসাইল থাকুক, আমাদের হাজার হাজার জিহাদি আছে। ফিঁদায়ে আছে। বাহালপুর মসজিদে রেকর্ড করা ওই অডিওতে মাসুদ বলেছে, জয়েশের ১০ হাজার ফিঁদায়ে প্রস্তুত। এছাড়াও রয়েছে ৩০ হাজার জিহাদি।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জানতে পারছে, এই দুই হুমকির লক্ষ্য অমরনাথ যাত্রা। যতই অমরনাথ যাত্রার সময়সীমা এগচ্ছে, ততই এই হুমকি বাড়বে। এদিকে পাকিস্তানকে নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবিরোধী কমিটির মাথায় বসিয়ে এবং জুলাই মাসে চেয়ারম্যানের পদে বসানো রাষ্ট্রসঙ্ঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই ভিডিও-অডিও লিঙ্ক জমা দেবে ভারত। রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পরবর্তী বৈঠকে ফের বলবেন, কীভাবে পাকিস্তানে সেদেশের সরকার ও সেনাবাহিনীর নাকের ডগায় এবং মদতেই চলছে সন্ত্রাস ছড়ানোর কর্মসূচি।