সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: লক্ষ্য একটাই। পরিবেশকে দূষণমুক্ত করা। সেই লক্ষ্যে দীর্ঘ ন’বছর ধরে বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগিয়ে চলেছেন আমতা ২ নম্বর ব্লকের জয়পুরের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক সৌরভ মণ্ডল। তিনি একটি একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকতা করেন। শুধু নিজে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও গাছ লাগাতে উৎসাহ দেন তিনি। তৈরি করেছেন নিজস্ব নার্সারি। সেখান থেকে বিনামূল্যে মানুষকে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
সৌরভবাবু এলাকায় ‘গাছ দাদা’ বলেই পরিচিত। তাঁর হাতে বসানো একাধিক বট, অশ্বত্থ, পাকুড়, মেহগিনির পাশাপাশি ফলের গাছ আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে পরিবেশকে নির্মল করছে। তবে শুধু গাছের চারা বসানো নয়, পাশাপাশি এইসব চারাকে বড় করে তুলতে সৌরভ তৈরি করে ফেলেছেন ‘সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দাও’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পরিবেশ রক্ষায় তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন একাধিক যুবক-যুবতী। তিনি নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়েছিলেন। এমনকি, প্রথম জামাইষষ্ঠীতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েও গ্রামে গাছ লাগিয়েছিলেন সৌরভ। সৌরভ বলেন, শুধু চারা লাগালেই হবে না, সেই গাছকে পরিচর্যা করা, গবাদি পশুদের হাত থেকে রক্ষা করা, গোড়ায় জন্মানো আগাছা পরিষ্কার করা— এসব করলে তবেই একটা গাছ ধীরে ধীরে বড়ো হয়ে ওঠে। তাঁর মতে, অনেকেই এখন এ ব্যাপারে সচেতন হয়েছেন। সৌরভের একটাই লক্ষ্য, ‘সবুজ পৃথিবী’ গড়ে তোলা।
তাঁর এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, ছোটো থেকেই গাছের প্রতি সৌরভের আলাদা টান রয়েছে। পরিবেশ বাঁচাতে সৌরভের এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে এক অন্য বার্তা দেবে। উলুবেড়িয়া আশা ভবন সেন্টারেও ৫০টি গাছ লাগিয়েছে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুরা। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক চিরণ বেরা, উলুবেড়িয়া মহিলা থানার আধিকারিক শাওন বাগচি, হাওড়া জেলা শিশু সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিক সীমা কাঞ্জিলাল সহ অন্যান্যরা।