Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নোটবন্দির সময় মহিলাদের ব্যাংকের লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করেন জাহাঙ্গির!

নোটবন্দির সময় মহিলাদের ব্যাংকে দাঁড়াতে বাধ্য করেছিলেন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। এলাকার মানুষের অভিযোগ ও প্রতিবাদে নতুন তথ্য সামনে আসছে। বিস্তারিত পড়ুন।

নোটবন্দির সময় মহিলাদের ব্যাংকের লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করেন জাহাঙ্গির!
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মাত্র ১০ বছরে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের উত্থান দেখে তাঁর গ্রামের লোকজনই হতবাক হয়েছিলেন। ফলতার বেলসিংহা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুরের পূর্ব দুর্গাপুরের বাসিন্দা এই তৃণমূল নেতা। সেই গ্রামের মানুষজন বলছেন, হতদরিদ্র পরিবারের এই যুবক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হয়ে উঠেছিলেন ফলতার ‘বেতাজ বাদশা’। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জাহাঙ্গিরের নানা কীর্তিকলাপ নিয়ে মুখ খুলছেন এলাকাবাসী। সামনে আসছে একের পর এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের মহিলাদের একাংশের অভিযোগ, ২০১৬ সালে নোটবন্দির সময় কোটি কোটি কালো টাকা সাদা করতে তাঁদের ব্যাংকের লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করেছিলেন তৃণমূলের তৎকালীন ব্লক সভাপতি জাহাঙ্গির। তাঁর নির্দেশ অমান্য করার সাহস ছিল না কারও। বিনিময়ে অবশ্য ওই মহিলাদের ১০০-২০০ করে টাকা দেওয়া হয়েছিল!

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গিরের বাবা একসময় সিপিএম পার্টির সদস্য ছিলেন। তিনি তাঁর ছেলেকে পঞ্চায়েতের সদস্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা কোনোভাবে হয়নি। পরে ব্লকের তৎকালীন এক তৃণমূল নেতার নজরে পড়ে যান জাহাঙ্গির। প্রথমে ব্লক সভাপতি, তারপর তৃণমূলের টিকিটে ভোটে জিতিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান করা হয় তাঁকে। এরপর আর তাঁকে পিছনে তাকাতে হয়নি! ক্রমশ নিজের মতো করে প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা। একটা সময়ের পর ফলতার তৎকালীন বিধায়ক তমোনাশ ঘোষের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। সাধারণ মানুষের দাবি, একটি অনুষ্ঠানে ভরা মঞ্চে বিধায়ককে চড় পর্যন্ত মেরেছিলেন জাহাঙ্গির। ২০১৮ সালের পর থেকে তাঁর ‘শক্তি’ আরও বাড়তে থাকে। কারণ, ততদিনে ‘বস’-এর সান্নিধ্য পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তখন থেকেই ফলতাজুড়ে শুরু হয় অত্যাচারের পর্ব। হুমকি, মারধর সহ নানা কর্মকাণ্ডে নাম জড়ায় জাহাঙ্গির ও তাঁর বাহিনীর। ভোট না দিতে দেওয়া, ভয় দেখিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখার মতো ঘটনাগুলি ঘটতে থাকে। 
প্রভাবশালী নেতা হয়ে উঠতেই তৎকালীন রাজ্য সরকার তাঁকে বিশাল নিরাপত্তা দেয়। অস্ত্রধারী রক্ষী ঘিরে থাকতেন জাহাঙ্গিরকে। নিজের বাড়ি থেকে পার্টি অফিস যেতেন হেঁটেই। সেই সময়টুকু রাস্তায় যান চলাচল একপ্রকার বন্ধ করে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। শুধু তাই নয়, যাঁরা প্রধান বা উপপ্রধান নির্বাচিত হতেন, তাঁদেরও দমিয়ে রাখতেন জাহাঙ্গির। তবে সেসবই আপাতত অতীত! সেদিনের দোর্দন্ডপ্রতাপ জাহাঙ্গিরকে মঙ্গলবার যখন ডায়মন্ডহারবার আদালতে তোলা হয়, দেখে কে বলবে যে তাঁর কথাতেই ফলতায় বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেত!  জাহাঙ্গিরকে দেখে বিক্ষোভ। মঙ্গলবার আদালত চত্বরে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ