নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নিত্যনতুন পন্থা অবলম্বন করে হুগলি থেকে দেদার চোলাই মদ পাচার করা হচ্ছে হাওড়া ও কলকাতার বাজারে। পাচারের অন্যতম ট্রানজিট রুট হয়ে উঠেছে জগৎবল্লভপুর। এছাড়া জগৎবল্লভপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো যেভাবে চোলাই মদের ঠেক গজিয়ে উঠছে, তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন পুলিস ও আবগারি দপ্তর। চোলাই মদের পাচার ও ঠেক পুরোপুরি নির্মূল করতে লাগাতার অভিযান চলবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার গভীর রাতে জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোলাই ও দেশি মদের একটি ঠেক ভাঙে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিস। গ্রেপ্তার করা হয় দু’জনকে। আরও ১১ জনকে আটক করা হয়। পুলিসের ভেঙে ফেলা ঠেকটি জগৎবল্লভপুরের অন্যতম বড় চোলাইয়ের ঠেক। তবে শুধু এখানেই নয়, মুন্সিরহাট, পাতিহালের মতো প্রত্যন্ত জায়গাতেও ব্যাঙের ছাতার মতো চোলাইয়ের ঠেক গজিয়ে উঠছে। জেলায় কড়া পুলিসি পদক্ষেপে চোলাইয়ের উৎপাদন বন্ধ করার পরেও কীভাবে চলছে বেআইনি ঠেক? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই হুগলির সিঙ্গুর থেকে হাওড়া হয়ে শহর কলকাতায় চোলাই মদের পাচার চলছে। এই পাচারের অন্যতম ট্রানজিট রুট হাওড়ার জগৎবল্লভপুর। চণ্ডীতলা, মানিকপুর সহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে হুগলি থেকে চোলাই মদ ঢুকছে এখানে। অনেক সময় সরাসরি পাচারের ঝুঁকি না নিয়ে জগৎবল্লভপুরেরই বিভিন্ন গোপন ডেরায় লুকিয়ে রাখা হচ্ছে মদ। সেখান থেকেও স্থানীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে চোলাই মদ। গ্রামেগঞ্জে গজিয়ে উঠছে ছোট ছোট বেআইনি ঠেক। হাওড়া গ্রামীণ পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘আন্তঃজেলা বর্ডারের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বেআইনি মদের ঠেক ভাঙতে লাগাতার অভিযান চলবে।’
জেলা আবগারি দপ্তর সূত্র জানা গিয়েছে, হুগলি থেকে জগৎবল্লভপুর হয়ে চোলাই মদ পাচার করতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল নিচ্ছে পাচারকারীরা। কিন্তু দপ্তরের আধিকারিকদের তৎপরতায় ধরাও পড়ছে তারা। গত বছর জগৎবল্লভপুরের ১০ নম্বর পোল এলাকায় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার চোলাই মদ বাজেয়াপ্ত করে আবগারি দপ্তর। বরযাত্রী সেজে ছোট গাড়িতে সেগুলি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল পাচারকারীরা। গত বছরই মশাট-জগৎবল্লভপুর রোডে পিকনিক পার্টি সেজে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার চোলাই মদ পাচার করার আগেই ধরা পড়ে অভিযুক্তরা। চলতি বছরেও রানিহাটি এলাকায় ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি গাড়িকে আটক করে ১০ বস্তা চোলাই মদের পাউচ বাজেয়াপ্ত করা হয়। গাড়িতে গেরুয়া ধ্বজা লাগিয়ে, ভক্তিগীতি চালিয়ে তীর্থযাত্রীর বেশে চোলাই মদ পাচারের চেষ্টা করছিল পাচারকারীরা। জেলা আবগারি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘পাচারকারীরা অভিনব পন্থা অবলম্বন করলেও আমরা সবসময় সতর্ক রয়েছি। ধারাবাহিক অভিযানে সাফল্য মিলছে।’