পুরী: পুরীতে এবারও রথযাত্রার দিন মাসির বাড়ি পৌছায়নি জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার রথ। বৃহস্পতিবার মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে দেববিগ্রহগুলিকে রথে আনার অনুষ্ঠানে দেরি হওয়ায় রথ টানাও দেরিতে শুরু হয়। এদিকে সূর্যাস্তের পর রথ টানা বন্ধ রাখাই নিয়ম। সেইমতো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ বন্ধ হয় রথ টানা। এর মধ্যে বলভদ্রের রথ তালধ্বজ প্রায় ৭০০ মিটার এগিয়ে মার্কেট চক পর্যন্ত, দেবী সুভদ্রার রথ দর্পদলন প্রায় ৪০০ মিটার গিয়ে মারিচিকোট চক, এবং জগন্নাথের রথ নন্দিঘোষ রথ সামান্য এগিয়েই মূল মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ প্রথমে বলভদ্রের রথ টানা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে সুভদ্রা ও জগন্নাথের রথ শ্রীগুণ্ডিচা মন্দিরের সামনে ‘সারধাবালি’ প্রান্তরে পৌঁছায়। পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দির কমিটির মুখ্য প্রশাসক অরবিন্দ পাধী জানান, প্রথা অনুযায়ী শুক্রবার রাতেও দেববিগ্রহগুলি রথেই অবস্থান করবেন। শনিবার সন্ধ্যায় তাঁদের শ্রীগুণ্ডিচা মন্দিরে প্রবেশ করানো হবে। আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে উলটো রথ বা বহুদা যাত্রা। এবারের রথযাত্রায় একটি ব্যতিক্রমী দৃশ্যও দেখা যায়। প্রবল বৃষ্টিতে ভিজে ভারী হয়ে যাওয়ায় ভগবান জগন্নাথের ঐতিহ্যবাহী ফুলের মুকুট ‘তাহিয়া’ খুলে নেওয়া হয়েছিল বলে জানান অরবিন্দ পাধী। বৃহস্পতিবার রথযাত্রার সময় ভিড়ের চাপ ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মধ্যে দুই ভক্তের মৃত্যু হয়। অসুস্থ হয়ে পড়েন শতাধিক। দুর্ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি শোকপ্রকাশ করলেও রাজ্য সরকার ঘটনাটিকে পদপিষ্ট বলে ঘোষণা করেনি।



