


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক:
রামনগরের খাদালগোবরার অনীক সামন্ত, পটাশপুরের শুভেন্দু জানা, মেদিনীপুর শহরের বিশ্বজিৎ দাস সকলেই দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের এজেন্সি নিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী। কেউ উচ্চ মাধ্যমিক, কেউ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করেও একটা চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছেন। কিন্তু, বেকার তকমা ঘুচাতে পারছিলেন না। দীঘা জগন্নাথ মন্দির চালু হওয়ার পর তাঁরা প্রত্যেকেই সেখানে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কর্মরত। জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদে রুজিরুটির সংস্থান করতে পেরেছেন বলে শুভেন্দু ও বিশ্বজিৎ দৃঢ় বিশ্বাস করেন। তাঁদের মতো ওই মন্দিরে ২০০জন এজেন্সির নিরাপত্তা কর্মী কাজ করছেন। শুধু নিরাপত্তারক্ষী নয়, মন্দিরে ভোগ রান্না থেকে আগাছা সাফ, ব্যাগ-জুতো রাখার কাউন্টারে অসংখ্য পুরুষ ও মহিলা আজ জগন্নাথ মন্দিরের সৌজন্যে স্বনির্ভর হয়েছেন।
কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্যেও বিরাট প্রভাব ফেলেছে এই মন্দির। মন্দিরের টানে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত রাজ্যের নানাপ্রান্ত থেকে আসছেন। এমনকী দেশ-বিদেশ থেকেও মাঝেমধ্যে ভক্ত সমাগম হচ্ছে। এই মন্দির উদ্বোধনের পরই উত্তরবঙ্গ থেকে একগুচ্ছ এনবিএসটিসি বাস চালানো শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে কলকাতা থেকে দীঘার দূরপাল্লার ভলভো বাসের সংখ্যা একলাফে অনেকটাই বেড়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর কথা মাথায় রেখেই সরকারি এবং বেসরকারি পরিবহণ সংস্থার পক্ষ থেকে বাড়তি বাস চালানো হচ্ছে। এর ফলে পরিবহণ সংস্থা লাভবান হচ্ছে। জগন্নাথ মন্দির ট্রাস্ট অফিসের উল্টো দিকে রাস্তার ধারে ডব্লুবিএসইডিসিএলের হলিডে হোমের গেটের সামনে চা, বিস্কুট, মুড়ি এবং ঘুগনি বিক্রি করেন ভগীব্রহ্মপুরের কাকলি শ্যামল এবং পায়া মেদিনীপুরের বাসিন্দা মামণি প্রধান। মন্দির উদ্বোধনের আগে কাকলির দোকানে দৈনিক ৪৫০-৫০০টাকার বিক্রি হতো। মন্দির চালু হওয়ার পর সেটা প্রায় ডবল হয়েছে। একইভাবে মামণির দোকানে বিক্রি প্রতিদিন গড়ে ৭০০-৮০০থেকে বেড়ে এখন দেড় হাজার টাকা হয়েছে। শুধু কাকলি কিংবা মামণি নয়, তাঁদের মতো বহু দোকান, হোটেল, টোটো চালক, প্রাইভেট গাড়ির চালকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে দীঘা জগন্নাথ মন্দির।