রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: এসআইআরকে হাতিয়ার করে শনিবার সিতাই কেন্দ্রের এক প্রান্তে প্রচার করলেন সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া ও অন্য প্রান্তে তৃণমূল প্রার্থী সঙ্গীতা রায়। শনিবার সকালে জেলার প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকা সিতাই বিধানসভার দরিবস ও জারিধরলায় ভোট প্রচারে যান জগদীশ।
মানসাই নদী দিয়ে মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা গীতালদহ ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের এই দু’টি গ্রাম। বর্ষার সময় মানসাই নদীর ভয়াল রূপ সিতাই বিধানসভার এই দু’টি গ্রামকে আলাদা করে রাখে। এদিন নৌকোতে চড়ে নদী পেরিয়ে স্থানীয় দলের নেতৃত্বদের সঙ্গে দরিবস ও জারিধরলায় পৌঁছন তৃণমূল সাংসদ। ভোট প্রচারে গিয়ে ১০০ দিনের টাকা আটকে রাখা, আবাসের টাকা না দেওয়া সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার কথা প্রচারে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এসআইআরকে হাতিয়ার করে বিজেপি কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটারদের নাম কেটে দিয়েছে। নাম বাদ দিয়ে বাংলার মানুষকে বাংলাদেশি তকমা দেওয়ার চক্রান্ত করছে বলেও প্রচারে গিয়ে তুলে ধরছেন সাংসদ। বিকালে গীতালদহ এলাকায় পথসভাও করেন তিনি।
জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া বলেন, এই এলাকাটি মানসাই নদী দিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। একদিকে বাংলাদেশ আর অন্যদিকে মানসাই নদী। দুর্গম এই এলাকার মানুষের কাছে অন্য কোনো দলের লোক এসে তাঁদের খোঁজখবর নেন না। আমরা যাঁরা তৃণমূলের লোকজন তাঁরা সারা বছরই এখানকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। নিয়মিত এই গ্রামে যাই। তাঁদের সুখ দুঃখে পাশে থাকি। এদিন এখানে এসে দলের প্রার্থীর হয়ে প্রচার করেছি। প্রচারে কেন্দ্রের বাংলাকে ভাতে মারার যে সব চক্রান্ত করছে ও এসআইআরকে হাতিয়ার করে যেভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাংলার মানুষের নাম কেটে দিয়েছে বিজেপি, সেসব প্রচারে তুলে ধরছি।
এদিকে, এদিন সিতাইয়ের তৃণমূল প্রার্থী সঙ্গীতা রায় প্রচার করলেন দিনহাটা ১ নং ব্লকের মাতালহাট এলাকায়। অন্যদিকে, সিতাইয়ের বিজেপি প্রার্থী আশুতোষ বর্মা পেটলা, পাহাড়বাড়ি, গোঁসানিমারি এলাকায় প্রচার করেন। • নৌকায় চেপে দরিবস ও জারিধরলার পথে জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া।