Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘আমাদের ফের বাস-অটোয় ফেরার সময় এসে গিয়েছে’, গড়িয়ায় মেট্রো বন্ধ দেখে ক্ষোভ উগরে দিলেন যাত্রীরা

হাতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ! তারপরেই পুজো। এর মাঝে একটি রোদ ঝলমলে রোববার

‘আমাদের ফের বাস-অটোয় ফেরার সময় এসে গিয়েছে’, গড়িয়ায় মেট্রো বন্ধ দেখে ক্ষোভ উগরে দিলেন যাত্রীরা
  • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ! তারপরেই পুজো। এর মাঝে একটি রোদ ঝলমলে রোববার! এমন দিনে বাঙালি পুজোর বাজার ছাড়া আর কোথায় যাবে! কিন্তু যেমন ভাবনা, বাস্তবে তেমনটা হয় না অনেকক্ষেত্রেই। রবিবার দক্ষিণ কলকাতা সহ দক্ষিণ শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকার বহু মানুষ তেমনই এক অভিজ্ঞতার সাক্ষী রইলেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেট্রোয় চেপে সহজে ও সুলভে হাতিবাগান কিংবা নিউ মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটার বাসনা পূর্ণ হল না তাঁদের। কারণ, এদিন শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সকাল থেকে বন্ধ ছিল মেট্রো। যাত্রী পরিষেবা শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৩টে পর। তাই আরাম করে পুজোর বাজারে যাওয়ার বদলে কেউ বাধ্য হলেন সেই ভিড় বাসে চাপতে, কাউকে অটোর জন্য দাঁড়াতে হল লম্বা লাইনে। একরাশ বিরক্তি নিয়ে বাসে ওঠা এক যাত্রী বলেই দিলেন, ‘সবাই যখন বাস-অটো ছেড়ে মেট্রো ধরছে, আমরা তখন আবার বাস-অটোয় ফিরছি!’

Advertisement

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, সারা সপ্তাহই দেরিতে চলছে মেট্রো। তার উপর রবিবার একবেলা বন্ধই করে দেওয়া হল। কামালগাজির বাসিন্দা পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘রাস্তায় এখন বাস থাকে না বললেই চলে। একগাদা অটো ভাড়া দিয়ে টালিগঞ্জ যাচ্ছি। সেখান থেকে মেট্রো ধরে শ্যামবাজার। তারপর হাতিবাগান। পুজোর বাজারে শুরুর দিকে ভিড় কম থাকে বলে আজকে বেরলাম। কিন্তু মেট্রো না পেয়ে মেজাজটাই বিগড়ে গেল।’ এদিন দুপুরের দিকে দেখা গেল, গড়িয়া থেকে ধর্মতলাগামী একাধিক বাসে বাদুড়ঝোলা ভিড়। এক যাত্রী বলছিলেন, ‘ভাড়া বাঁচানোর জন্য অটোতে না গিয়ে বাসে উঠলাম। গোটা রাস্তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আসতে হল। টালিগঞ্জে নেমে মেট্রো ধরলে ডাবল ভাড়া লাগবে। তাই বাস ধরলাম।’ 
অনেকে জানতেন না যে এদিন বিকেল পর্যন্ত মেট্রো বন্ধ থাকবে। তাই মেট্রো স্টেশনে পৌঁছে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাঁদের। জেলার দিকের অনেকে ট্রেনে গড়িয়ায় নেমে সোজা শহিদ ক্ষুদিরামে চলে এসেছেন। সেখানে এসে দেখছেন, মেট্রো স্টেশনের শাটার নামানো। ক্যানিংয়ের বাসিন্দা সুকুমার পাল তেমনই একজন। বলছিলেন, ‘আমার ধর্মতলায় যাওয়ার কথা। আমি তো জানতামই না যে মেট্রো বন্ধ। গড়িয়ায় নেমে শহিদ ক্ষুদিরামে এসে দেখছি এই অবস্থা। ট্রেনে শিয়ালদহ চলে গেলেই ভালো হতো।’ যদিও বিকেল সাড়ে ৩টের পর থেকে মেট্রো চালু হলে স্বস্তি মেলে। বিকেলের দিকে মেট্রো স্টেশনে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা বলেন, ‘ফিরতে একটু রাত হয়ে যাবে ঠিকই। কিন্তু ভালোভাবে যাব বলেই বিকেলে বেরলাম। ফেরার সময় আবার মেট্রোতে কতটা ভিড় হবে, 
কে জানে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ