Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইতালিতে পাচার হওয়া বাংলাদেশিদের ‘রিসিভার’ ধৃত, পাসপোর্ট কাণ্ডে লালবাজারের জালে নদীয়ার এজেন্ট

ইতালিতে পাচার হওয়া বাংলাদেশিদের ‘রিসিভার’ ধৃত, পাসপোর্ট কাণ্ডে লালবাজারের জালে নদীয়ার এজেন্ট
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাসপোর্ট কাণ্ডে আরও একজন গ্রেপ্তার। সেই সঙ্গে সামনে এল অনুপ্রবেশকারী এক বাংলাদেশির অবিশ্বাস্য কীর্তিকলাপ।  উঠে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জাল নথি দিয়ে তৈরি পাসপোর্ট ব্যবহার করে বহু অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিকে ইউরোপে পাচার করা হতো। ইতালিতে সেই বাংলাদেশিদের ‘রিসিভার’ ছিলেন যিনি, তাঁকেই গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিস। তারা জানিয়েছে, ধৃতের নাম ধীরেন ঘোষ। বুধবার ভোররাতে তাঁকে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। ১০ বছর আগের সেই ‘অ্যাক্টিভ রিসিভার’ এখন গেদে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপারের অন্যতম এজেন্ট বলে জানা গিয়েছে।  
Advertisement
গত সপ্তাহে পাসপোর্ট কাণ্ডের মূল চক্রী মনোজ গুপ্তাকে গ্রেপ্তার করে লালবাজার। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরায় উঠে আসে নতুন একটি নাম। তাঁর খোঁজে সোমবার রাতেই নদীয়ার চাকদহ থানা এলাকার মদনপুরে হানা দেন গোয়েন্দারা। বর্ষবরণের রাতে একটি ভাড়াবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ধীরেনকে। তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিস জেনেছে, তিনি নিজে একজন বাংলাদেশি। বছর ১৫ আগে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর নাম বদলে জাল সার্টিফিকেট ও নথির সাহায্যে জন্ম শংসাপত্র, রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড ইত্যাদি তৈরি করান। সেসব নথির ভিত্তিতে পাসপোর্টও বার করে নেন। ধীরেন গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, সেই পাসপোর্টের মাধ্যমে ২০০৭ সালে ইউরোপের ইতালিতে পাড়ি দেন তিনি। সেখানেই ১০ বছরের জন্য থাকার বন্দোবস্ত করে নেন। তিনি কী করতেন ইতালিতে? লালবাজার সূত্রে খবর, প্রথমে এ বিষয়ে কিছুতেই মুখ খুলতে চাননি ধীরেন। কড়া জেরার মুখে শেষমেশ ভেঙে পড়েন। পুলিসকে জানান, পাসপোর্ট-কাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে মানবপাচার। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর বহু যুবক, মহিলা, নাবালিকাকে চোরাপথে ভারতে নিয়ে আসা হতো। তারপর ভুয়ো স্কুল সার্টিফিকেট, আধার, ভোটার কার্ড তৈরি করে সেগুলির সাহায্যে বার করা হতো পাসপোর্ট। সেই পাসপোর্ট কাজে লাগিয়ে ইউরোপে পাচার বা বিক্রি করে দেওয়া হতো অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের। ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ধীরেনের কাজ ছিল ভারত থেকে পাচার হওয়া বাংলাদেশিদের ইতালিতে ‘রিসিভ’ করা। তারপর সেখান থেকে অন্য এজেন্ট মারফত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হতো। 
২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসেন ধীরেন। তারপর থেকে নদীয়ায় এই ভাড়াবাড়িতেই ঘাঁটি গেড়েছিলেন তিনি। গেদে সীমান্ত ও সংলগ্ন এলাকা ছিল তাঁর ‘অধীন’। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিস জেনেছে এখনও পর্যন্ত গেদে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রায় ৩০০ বাংলাদেশিকে এপারে এনেছেন তিনি। গোপন আস্তানায় আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। ‘ধুর পার্টি’র কাজ করতে গিয়ে একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছেন ধীরেন। তাঁর ভাড়াবাড়ি থেকে বিপুল সংখ্যক নকল ভোটার কার্ড, আধার, জন্ম শংসাপত্র, স্কুল সার্টিফিকেট উদ্ধার করেছে পুলিস। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অনেক পাসপোর্টও। অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ